জানি বা না জানি : সত্যের তাতে কি??

জীবন বড়ই বৈচিত্র্যময়। গতিময় জীবনপ্রবাহে বৈচিত্র্যের পদচারণা আরও বেশিরকম মুখর। সমাজ সাংসারের প্রতিটা অলিগলিতে কতনা বৈচিত্র্যময় ঘটনার সমারহ। তার কিছু নিখাদ সত্য, কিছু উপাখ্যান বা প্রচলিত গল্পকথা এবং কিছু বা নিরেট মিথ্যা। কিছু বর্ণিল নিখাদ সত্য তুলে ধরার জন্য এই ব্লগরব্লগর। বিভিন্ন সময়ে টুকে রাখা বিষয়বস্তু থেকে এই উপস্থাপনার রসদ যোগাড় করা যা হাল নাগাদেও কিছু সংযোজিত বটে।

ভুমিকা শ্যাষ। সত্য এবং তথ্যের উপস্থাপন শুরুঃ

শিশু দিয়েই শুরু করালাম।সব শিশুরাই জন্মের সময় থাকে বর্ণান্ধ।

১৯৫২ সালে আলবার্ট আইনস্টাইনকে  ইসরাইলের রাষ্ট্রপতির পদ দেয়ার প্রস্তাব করা হয় যা তিনি নাকচ করেন।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০,০০০ এর অধিক মানুষ টয়লেট সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

নিউ ইয়র্ক শহরে প্রতি বছর প্রায় ১,৬০০ অন্য মানুষের কামড়ে আহত হয়।

বামহাতি লোকজন ক্রীড়াক্ষেত্রে অত্যধিক পারঙ্গম কেননা খেলাধুলায় প্রয়োজনীয় তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ডানহাতি ব্যাক্তিদের তুলনায় বামহাতিরা শ্রেয়।

মাইনাস ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস মাইনাস ৪০ ডিগ্রী ফারেনহাইটের সমান।

ব্রাজিলের Monumental Axis সবচেয়ে প্রশস্ততম সড়ক যেখানে ১৬০টি গাড়ি পাশাপাশি চলতে পারে।

পৃথিবীতে যত ফটোকপি মেশিন নষ্ট হয় তার ২৩ শতাংশের কারণ মানুষের নিতম্বদেশ ফটোকপি করার অভিপ্রায়।

প্রতি বছর ৭,০০০ নতুন প্রজাতির কীটপতঙ্গ আবিস্কৃ্ত হয়।

বিশ্বে সর্বমোট বিক্রিত ভ্যালেন্টাইনস দিবসের কার্ডের ৮৫ শতাংশের ক্রেতা হছেন মহিলা।

একটা শিশু অক্টোপাস জন্মের সময় কীট আকৃতির থাকে।

একটি কাঁচের বল রবারের তৈরি বলের তুলনায় বেশি লাফায়।

আণবিক ঘড়িতে একটি সিজিয়াম অণু এক সেকেন্ডে ৯ বিলিয়নেরও বেশিবার কম্পিত হয়।

একজন মহিলার ৩৫ বছর বয়সের পর জমজ সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ২৭ জনে ১ জন মহিলার ক্ষেত্রে এমনটা হয়। পঞ্চাশঊর্ধ্ব মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা ৯ জনে ১ জন।

একটা Citroen 2CV গাড়ি গিয়ারবক্সে কলা ভর্তি করে তেলের ট্যাঙ্ককিতে ফুটো নিয়েও ৫০০ মাইল অতিক্রম করেছিল।

একটা মাথাকাটা তেলাপোকা/আরশোলা মাঠাকাটা অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ বাঁচতে পারে। খাবার খেতে পারলে তাও মরত না, কারণ ওটা মারা যায় অনাহারে।

যদি বলি “I will be there in a jiffy” কি বুঝবেন? বুঝতে হবে খুব দ্রুত যাব। কারণ Jiffy  সময়ের একটি একক যার পরিমাপক হল ১ সেকেন্ডের ১০০তম ভাগের ১ভাগ।

বন্ধ নাক খোলার উপায় হল সেক্স করা।সেক্স প্রাকৃতিক এন্টিহিস্টামিন যা অ্যাজমা ও অ্যালারজিক জ্বর-জারি প্রশমনে কাজ করতে পারে।

একবার এক কান্সার রোগী তার ডাক্তেরের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছিল। কেননা, ডাক্তেরের বেঁধে দেয়া সময়সীমার অধিক সময় সে বেঁচে ছিল।

একটা ছুঁচোর পক্ষে একরাতে কতখানি খনন করা সম্ভব? বিশ্বাস করুন আর নাই করুন – একরাতে একটা ছুঁচো ৩০০ ফুট লম্বা টানেল খুঁড়তে পারে।

এবার শুনুন ইঁদুরের বাহাদুরি – একটা ইঁদুরকে পাঁচতলা সমান উচ্চতা থেকে ফেলা হয় তার কিচ্ছু হবে না।
লেখা শ্যাষ।

______________________________________________________________________________
বি, দ্রঃ উপস্থাপিত তথ্যাবলী সত্য, কোন তথ্যের প্রয়োগ পাঠক নিজ দায়িত্বে করবেন। প্রয়ায়গিক জটিলতার দায় সংকলকের ঘাড়ে বর্তাবে না।

Difference Between Training and Capacity Development

The terms ‘training’ and ‘capacity development’ are sometimes confused or used interchangeably. The following lines illustrates the difference between training and capacity development very well. Training is just one element of capacity development. It usually focuses on providing skills for specific problems (e.g. using Facebook or Twitter).  Capacity development encompasses a whole range of activities designed to empower individuals and institutions (including the analysis of policy contexts, awareness building, institutional adjustments, policy research, policy immersion and more). In Development programmes, training is embedded within a broad set of activities, carefully designed to take into account the local cultural, policy and organisational context.

শিশু আইন, ২০১৩

     ( ২০১৩ সনের ২৪ নং আইন )

[২০ জুন, ২০১৩]

জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়নের নিমিত্ত বিদ্যমান শিশু আইন রহিতক্রমে এতদ্‌সংক্রান্ত
একটি নূতন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রণীত আইন

যেহেতু জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে বাংলাদেশ পক্ষভুক্ত হইয়াছে; এবং
যেহেতু উক্ত সনদ এর বিধানাবলী বাস্তবায়নের নিমিত্ত বিদ্যমান শিশু আইন রহিতপূর্বক উহা পুনঃপ্রণয়ন ও সংহত করিবার লক্ষ্যে একটি নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম এবং প্রবর্তন ১। (১) এই আইন শিশু আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।

(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা ২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘অধিদপ্তর’ অর্থ সমাজসেবা অধিদপ্তর;
(২) ‘আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি Guardian and Wards Act, 1890 (Act No. VIII of 1890) এর section 7 এর অধীনে, শিশুর কল্যাণার্থে, আদালত কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক (guardian);
(৩) ‘আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু (Children in Conflict with the Law)’ অর্থ এমন কোন শিশু যে, দণ্ডবিধির ধারা ৮২ ও ৮৩ এ বিধান সাপেক্ষে, বিদ্যমান কোন আইনের অধীন কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত অথবা বিচারে দোষী সাব্যস্ত;
(৪) ‘আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু (Children in Contact with the Law)’ অর্থ এমন কোন শিশু, যে বিদ্যমান কোন আইনের অধীনে কোন অপরাধের শিকার বা সাক্ষী;
(৫) ‘দণ্ডবিধি’ অর্থ Penal Code, 1860 (Act No. LV of 1860);
(৬) ‘ধারা’ অর্থ এই আইনের কোন ধারা;
(৭) ‘নিরাপদ স্থান (Safe Home)’ অর্থ কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান বা এমন কোন স্থান বা প্রতিষ্ঠান যাহার কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন শিশু-আদালত, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, প্রবেশন কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, অন্য কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রেরিত শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখিবার দায়িত্ব পালন করে;
(৮) ‘প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান’ অর্থ ধারা ৫৯ ও ৬০ এ উল্লিখিত কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান;
(৯) ‘প্রবেশন কর্মকর্তা (Probation Officer)’ অর্থ ধারা ৫ এ উল্লিখিত কোন প্রবেশন কর্মকর্তা;
(১০) ‘ফৌজদারী কার্যবিধি’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
(১১) ‘বর্ধিত পরিবার (extended family)’ অর্থ দাদা, দাদী, নানা, নানী, চাচা, চাচী, ফুফা, ফুফু, মামা, মামী, খালা, খালু, ভাই, ভাবী, ভগ্নি, ভগ্নিপতি বা এইরূপ রক্তসম্পর্কীয় অথবা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ কোন আত্মীয়ের পরিবার;
(১২) ‘বিকল্প পরিচর্যা (alternative care)’ অর্থ ধারা ৮৪ এর অধীন গৃহীত কোন ব্যবস্থা;
(১৩) ‘বিকল্পপন্থা (diversion)’ অর্থ ধারা ৪৮ এর অধীন গৃহীত কোন ব্যবস্থা;
(১৪) ‘ব্যক্তি’ অর্থে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, কোন কোম্পানী, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৫) ‘বোর্ড’ বা ‘শিশুকল্যাণ বোর্ড’ অর্থ ধারা ৭, ৮ ও ৯ এর অধীন গঠিত, ক্ষেত্রমত, জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড, জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড বা উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড;
(১৬) ‘ভিক্ষা’ অর্থ কোন ব্যক্তির নিকট হইতে অর্থ, অন্ন, বস্ত্র বা অন্য কোন দ্রব্যাদি প্রাপ্তি বা আদায়ের উদ্দেশ্যে-
(ক) কোন শিশুকে প্রদর্শন বা ব্যবহার করিয়া প্রকাশ্য স্থানে নাচ, গান, ভাগ্য গণনা, পবিত্র স্তবক পাঠ অথবা ভিন্ন কোন কলা-কৌশল গ্রহণ করা, ভান করিয়া হউক বা না হউক; বা
(খ) কোন শিশুর দেহে অনৈতিক প্রক্রিয়ায় ঘা, ক্ষত, আঘাত সৃষ্টি করা বা শিশুকে বিকলাঙ্গতায় পরিণত করা এবং অনুরূপ ঘা, ক্ষত, আঘাত বা বিকলাঙ্গতা প্রদর্শন করা বা প্রদর্শনের জন্য অনাবৃত রাখা; বা
(গ) মাদকদ্রব্য বা ঔষধ সেবনের মাধ্যমে কোন শিশুকে নিস্তেজ বা নির্জীব করিয়া রাখা বা ভিন্ন কোন উপায়ে মৃত হিসাবে সাজাইয়া রাখা;
(১৭) ‘শিশু’ অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত শিশু হিসাবে নির্ধারিত কোন ব্যক্তি;
(১৮) ‘শিশু-আদালত’ অর্থ ধারা ১৬ এর অধীন নির্ধারিত কোন আদালত;
(১৯) ‘শিশুউন্নয়ন কেন্দ্র’ অর্থ ধারা ৫৯ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন শিশুউন্নয়ন কেন্দ্র;
(২০) ‘শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা’ অর্থ ধারা ১৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত শিশুবিষয়ক ডেস্ক এর দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা;
(২১) ‘সমাজকর্মী’ অর্থ অধিদপ্তরে বা উহার অধীনে কর্মরত ইউনিয়ন সমাজকর্মী বা পৌর সমাজকর্মী অথবা খালাম্মা, বড়ভাইয়া বা উক্তরূপ সমমানের কোন কর্মী, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যিনি শিশুদের সেবাদানের সহিত সংশ্লিষ্ট;
(২২) ‘সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন’ অর্থ ধারা ৩১ এ উল্লিখিত সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন;
(২৩) ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশু’ অর্থ ধারা ৮৯ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন শিশু;
(২৪) ‘সভাপতি’ অর্থ, ক্ষেত্রমত, জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড, জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড বা উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর সভাপতি।
আইনের প্রাধান্য ৩। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
শিশু ৪। বিদ্যমান অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অনুর্ধ্ব ১৮ (আঠার) বৎসর বয়স পর্যন্ত সকল ব্যক্তি শিশু হিসাবে গণ্য হইবে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং তাহাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য
প্রবেশন কর্মকর্তা ৫। (১) এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার, ক্ষেত্রমত, প্রত্যেক জেলা, উপজেলা এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় এক বা একাধিক প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে, বিদ্যমান অন্য কোন আইনের অধীন কোন ব্যক্তিকে প্রবেশন কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করা হইলে, তিনি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত, এই আইনের অধীন প্রবেশন কর্মকর্তা হিসাবে এমনভাবে দায়িত্ব পালন করিবেন যেন তিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত হইয়াছেন।
(৩) কোন এলাকায় প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ না করা পর্যন্ত সরকার, প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের জন্য, অধিদপ্তরে এবং উহার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সমাজসেবা কর্মকর্তা বা সমমানের অন্য কোন কর্মকর্তাকে প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারিবে।
প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্তব্য ৬। প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা :-

(ক) আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে থানায় আনয়ন করা হইলে অথবা অন্য কোনভাবে থানায় আগত হইলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে,-
(অ) আনয়ন বা আগমনের কারণ অবগত হওয়া;
(আ) সংশ্লিষ্ট শিশুর সহিত সাক্ষাৎ করা এবং সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে তাহাকে আশ্বস্ত করা;
(ই) সংশ্লিষ্ট অভিযোগ বা মামলা চিহ্নিত করিতে পুলিশের সহিত যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধন করা;
(ঈ) সংশ্লিষ্ট শিশুর মাতা-পিতার সন্ধান করা এবং তাহাদের সহিত যোগাযোগ করিতে পুলিশকে সহায়তা করা;
(উ) শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার সহিত শিশুর জামিনের সম্ভাব্যতা যাচাই বা, ক্ষেত্রমত, তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মামলার প্রেক্ষপট মূল্যায়নপূর্বক বিকল্পপন্থা গ্রহণ করা;
(ঊ) বিকল্পপন্থা অবলম্বন বা যুক্তিসঙ্গত কোন কারণে জামিনে মুক্তি প্রদান করা সম্ভবপর না হইলে আদালতে প্রথম হাজিরার পূর্বে সংশ্লিষ্ট শিশুকে, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে, নিরাপদ স্থানে প্রেরণের ব্যবস্থা করা; এবং
(ঋ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা;

(খ) আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে শিশু-আদালতে উপস্থিত করা হইলে-
(অ) আদালতে অবস্থান বা বিচারকালীন আদালতে উপস্থিত থাকা এবং, যখনই প্রয়োজন হইবে, সংশ্লিষ্ট শিশুকে, যতদূর সম্ভব, সঙ্গ প্রদান করা;
(আ) সরেজমিনে অনুসন্ধানপূর্বক সংশ্লিষ্ট শিশু ও তাহার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনাক্রমে, সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রস্ত্তত এবং আদালতে দাখিল করা;
(ই) শিশুকে, প্রয়োজনে, জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির মাধ্যমে আইনগত সহায়তা প্রদানসহ শিশুর পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা;
(ঈ) শিশুর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার নিমিত্ত, উপ-দফা (ই) এর উদ্দেশ্যকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, প্রয়োজনে, বেসরকারি পর্যায়ে কর্মরত আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার সহিত যোগাযোগ করা এবং শিশুর পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা; এবং
(উ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা;

(গ) আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র বা কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হইলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে,-
(অ) প্রত্যেক শিশুর জন্য পৃথক নথি প্রস্ত্তত ও সংরক্ষণ করা;
(আ) ধারা ৮৪ তে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা;
(ই) নিয়মিত বিরতিতে শিশুর সহিত সাক্ষাৎ করা বা শিশুর ইচ্ছা অনুযায়ী তাহার যাচিত সময়ে তাহাকে সাক্ষাৎ প্রদান করা;
(ঈ) মাতা-পিতা, বর্ধিত পরিবার বা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক সংশ্লিষ্ট শিশুর তত্ত্বাবধানের শর্তাবলী সঠিকভাবে পালন করিতেছেন কি না তাহা, যতদূর সম্ভব, পর্যবেক্ষণ বা মনিটর করা;
(উ) শিশুর আনুষ্ঠানিক ও কারিগরী শিক্ষা সঠিকভাবে প্রদত্ত হইতেছে কি না তাহা সরেজমিনে তদারকি করা;
(ঊ) নিয়মিত বিরতিতে, শিশুর আচরণ এবং শিশুর জন্য গৃহীত ব্যবস্থার যথার্থতা সম্পর্কে, আদালতকে অবহিত করা এবং আদালত কর্তৃক তলবকৃত প্রতিবেদন দাখিল করা;
(ঋ) শিশুকে সৎ উপদেশ প্রদান করা, যথাসম্ভব বন্ধুভাবাপন্ন করিয়া তোলা এবং এতদুদ্দেশ্যে তাহাকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা; এবং
(এ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা;

(ঘ) আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর ক্ষেত্রে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে,-
(অ) বিকল্পপন্থা বা বিকল্প পরিচর্যার শর্তাবলী পর্যবেক্ষণ করা; এবং
(আ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা।

তৃতীয় অধ্যায়
শিশুকল্যাণ বোর্ড এবং উহার কার্যাবলি
জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড ও উহার কার্যাবলি ৭। (১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ‘জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড’ নামে একটি বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-
(ক) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;
(খ) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, পদাধিকারবলে;
(গ) জাতীয় সংসদের স্পীকার কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন মহিলা সংসদ সদস্য, যাহাদের মধ্যে ১ (এক) জন সরকার দলীয় এবং ১ (এক) জন বিরোধী দলীয় হইবেন;
(ঘ) মহাপুলিশ পরিদর্শক বা তদকর্তৃক মনোনীত অন্যূন উপমহাপুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;
(ঙ) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
(চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার, অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার, একজন কর্মকর্তা;
(ছ) স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার, অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার, একজন কর্মকর্তা;
(জ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার, অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার, একজন কর্মকর্তা;
(ঝ) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার, অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার, একজন কর্মকর্তা;
(ঞ) আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার, অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার, একজন কর্মকর্তা;
(ট) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার, অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার, একজন কর্মকর্তা;
(ঠ) তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার, অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার, একজন কর্মকর্তা;
(ড) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার, অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার, একজন কর্মকর্তা;
(ঢ) মহা-কারা পরিদর্শক;
(ণ) ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পদাধিকারবলে;
(ত) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক;
(থ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পদাধিকারবলে;
(দ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পদাধিকারবলে;
(ধ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পদাধিকারবলে;
(ন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক, পদাধিকারবলে;
(প) জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক, পদাধিকারবলে;
(ফ) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা তদ্‌কর্তৃক মনোনীত উহার কার্যনির্বাহী কমিটির ১ (এক) জন প্রতিনিধি;
(ব) জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পদাধিকারবলে;
(ভ) বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর পরিচালক,পদাধিকারবলে;
(ম) সরকার কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন গণ্যমান্য ব্যক্তি;
(য) সরকার কর্তৃক মনোনীত, জেলা পর্যায়ে কার্যক্রম রহিয়াছে এইরূপ প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সেচ্ছাসেবী শিশুবিষয়ক সংস্থার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;
(র) সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পদাধিকারবলে, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন;

(২) জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা :-
(ক) শিশুউন্নয়ন কেন্দ্র এবং প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি, সমন্বয় সাধন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন;

(খ) সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুদের-
(অ) পরিবার ও সমাজ জীবনে পুনঃএকীকরণ এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান;
(আ) কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে তাহাদের লিঙ্গভিত্তিক সংখ্যা নিরূপণ এবং তাহাদের জীবন-যাত্রার পদ্ধতি সম্বন্ধে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহপূর্বক এতদ্‌বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান;
(ই) জন্য, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় বিকল্পপন্থা বা বিকল্প পরিচর্যার উপায় নির্ধারণ এবং উক্তরূপ পন্থা বা পরিচর্যার আওতাধীন শিশুর তথ্য ও উপাত্ত পর্যালোচনা;

(গ) জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড’ এর সুপারিশ অনুমোদন;

(ঘ) জেলা এবং উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড’ এর-
(অ) নীতিমালা প্রণয়ন এবং, প্রয়োজনে, সুপারিশ ও দিক নির্দেশনা প্রদান;
(আ) কার্যক্রম সম্পর্কে, সময় সময়, তাহাদের নিকট হইতে প্রতিবেদন আহবান এবং তাহাদের কার্যক্রমের সমন্বয় সাধনের জন্য, প্রয়োজনে, আন্ত:বোর্ড সমন্বয় সভার আয়োজন;

(ঙ) উপরি-উক্ত দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদনের প্রয়োজনে অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ।

জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড ও উহার কার্যাবলি ৮। (১) প্রত্যেক জেলায়, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে, ‘জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড’ নামে একটি করিয়া বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-
(ক) জেলা প্রশাসক, পদাধিকারবলে, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;
(খ) জেলা পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট, পদাধিকারবলে;
(গ) জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;
(ঘ) সিভিল সার্জন, পদাধিকারবলে;
(ঙ) জেলা’র জেল সুপারিনটেনডেন্ট;
(চ) জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, পদাধিকারবলে;
(ছ) জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা,পদাধিকারবলে;
(জ) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,পদাধিকারবলে;
(ঝ) জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কর্তৃক মনোনীত ২(দুই) জন প্রবেশন কর্মকর্তা;
(ঞ) জেলা তথ্য কর্মকর্তা, পদাধিকারবলে;
(ট) জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা কমিটির চেয়ারম্যান;
(ঠ) জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি;
(ড) জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর;
(ঢ) জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট জেলার ২ (দুই) জন গণ্যমান্য ব্যক্তি;
(ণ) জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত শিশুবিষয়ক কার্যাবলির সহিত জড়িত সংশ্লিষ্ট জেলার বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ২ (দুই) জন প্রতিনিধি, যদি থাকে;
(ত) জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা :-
(ক) সংশ্লিষ্ট জেলায় বিদ্যমান শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র বা, ক্ষেত্রমত, প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান, শিশুদের জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, যদি থাকে, এবং কারাগার পরিদর্শন এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম তদারকি, সমন্বয় সাধন, পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়ন;
(খ) সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় বিকল্প পরিচর্যার উপায় নির্ধারণ, ক্ষেত্রমত, তাহাদিগকে বিকল্প পরিচর্যায় প্রেরণ এবং উক্তরূপ পরিচর্যার আওতাধীন শিশুর তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা;
(গ) জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড এর নির্দেশনা বাস্তবায়ন;
(ঘ) উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর সুপারিশ অনুমোদন বা, প্রয়োজনে, অনুমোদনের লক্ষ্যে জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড-এ প্রেরণ;
(ঙ) উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে, সময় সময়, প্রতিবেদন আহবান করা এবং উক্ত বোর্ড’ এর কাজের সমন্বয় সাধনের জন্য, প্রয়োজনে, আন্ত:বোর্ড সভার আয়োজন;
(চ) শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান বা, ক্ষেত্রমত, জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রেরিত তথ্যাদি সম্পর্কে আলোচনা ও শিশুর কল্যাণার্থে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা উদ্যোগ গ্রহণ; এবং
(ছ) উপরি-উক্ত দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পাদনের প্রয়োজনে অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ।

উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড ও উহার কার্যাবলি ৯। (১) প্রত্যেক উপজেলায় নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ‘উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড’ নামে একটি করিয়া বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-
(ক) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;
(খ) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা;
(গ) উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা;
(ঘ) উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা;
(ঙ) থানা’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তদ্‌কর্তৃক মনোনীত শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা;
(চ) প্রবেশন কর্মকর্তা;
(ছ) উপজেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির সভাপতি বা তদ্‌কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন প্রতিনিধি, যদি থাকে;
(জ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট উপজেলার ২ (দুই) জন গণ্যমান্য ব্যক্তি;
(ঝ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনীত শিশুবিষয়ক কার্যাবলির সহিত জড়িত সংশ্লিষ্ট উপজেলার বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;
(ঞ) উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) ‘উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(ক) সংশ্লিষ্ট উপজেলায় বিদ্যমান প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের গৃহীত কার্যক্রম তদারকি, সমন্বয় সাধন, পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়ন;
(খ) সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় বিকল্প পরিচর্যার উপায় নির্ধারণ, ক্ষেত্রমত, তাহাদিগকে বিকল্প পরিচর্যায় প্রেরণ এবং উক্তরূপ পরিচর্যার আওতাধীন শিশুর তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা;
(গ) জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড বা, ক্ষেত্রমত, জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, প্রণীত নীতিমালা ও প্রদত্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং যাচিত প্রতিবেদন প্রেরণ;
(ঘ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন; এবং
(ঙ) উপরি-উক্ত দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদনের প্রয়োজনে অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ।

বোর্ডের মনোনীত কর্মকর্তার মেয়াদ, ইত্যাদি ১০। (১) জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড, জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড ও উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসরের জন্য স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপে মনোনীত কোন সদস্য, ইচ্ছা করিলে, যেকোন সময়, সংশ্লিষ্ট সভাপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন এবং সভাপতি কর্তৃক উহা গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পদটি শূন্য হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) মনোনয়ন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় তদ্‌কর্তৃক প্রদত্ত মনোনয়ন বাতিল করিয়া তদস্থলে উপযুক্ত নূতন কোনো ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বোর্ডের সদস্য সংখ্যা হ্রাস বা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

বোর্ডের সভা ১১। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) বোর্ড এর সভা, উহার সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) প্রতি ৬(ছয়) মাসে জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড, প্রতি ৪(চার) মাসে জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এবং প্রতি ৩(তিন) মাসে উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৪) সভাপতি বোর্ড এর সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে, তদ্‌কর্তৃক নির্দেশিত কোন সদস্য বা এইরূপ কোন নির্দেশনা না থাকিলে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের দ্বারা নির্বাচিত অন্য কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৫) মোট সংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিতিতে বোর্ডের সভার কোরাম গঠিত হইবে।

(৬) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বোর্ড এর সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।

(৭) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ক্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ড এর কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এবং উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর উপদেষ্টা ১২। (১) জাতীয় সংসদের স্পীকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট জেলা’র একজন সংসদ সদস্য জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর উপদেষ্টা হইবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট জেলায় কোন মহিলা সংসদ সদস্য থাকিলে, মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে, উক্ত মহিলা সংসদ সদস্যকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।

(২) উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর উপদেষ্টা হইবেন।

(৩) জেলা ও উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর উপদেষ্টার দায়িত্ব ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

চতুর্থ অধ্যায়
শিশুবিষয়ক ডেস্ক, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, ইত্যাদি
শিশুবিষয়ক ডেস্ক ১৩। (১) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যেক থানায়, সাব-ইন্সপেক্টর এর নিম্নে নহেন এমন একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদানক্রমে, একটি শিশুবিষয়ক ডেস্ক গঠন করিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, কোন থানায় মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর কর্মরত থাকিলে উক্ত ডেস্ক’এর দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে তাহাকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত শিশুবিষয়ক ডেস্ক’ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে অভিহিত হইবেন।

শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কার্যাবলি ১৪। শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:
(ক) শিশুবিষয়ক মামলার জন্য পৃথক নথি ও রেজিস্টার সংরক্ষণ করা;

(খ) কোন শিশু থানায় আসিলে বা শিশুকে থানায় আনয়ন করা হইলে-
(অ) প্রবেশন কর্মকর্তাকে অবহিত করা;
(আ) শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে শিশুর তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে অবহিত করা এবং বিস্তারিত তথ্যসহ আদালতে হাজির করিবার তারিখ জ্ঞাত করা;
(ই) তাৎক্ষণিক মানসিক পরিসেবা প্রদান করা;
(ঈ) প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং, প্রয়োজনে, ক্লিনিক বা হাসপাতালে প্রেরণ করা;
(উ) শিশুর মৌলিক চাহিদা পূরণ করিবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(গ) সঠিকভাবে শিশুর বয়স নির্ধারণ করা হইতেছে কি না বা নির্ধারণ করিবার ক্ষেত্রে শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ বা এতদ্‌সংশ্লিষ্ট বিশ্বাসযোগ্য দলিলাদি পর্যালোচনা করা হইতেছে কি না তদ্‌বিষয়ে লক্ষ্য রাখা;

(ঘ) প্রবেশন কর্মকর্তার সহিত যৌথভাবে শিশুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মূল্যায়নপূর্বক বিকল্পপন্থা অবলম্বন এবং সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক জামিনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(ঙ) বিকল্পপন্থা অবলম্বন বা কোন কারণে জামিনে মুক্তি প্রদান করা সম্ভবপর না হইলে আদালতে প্রথম হাজিরার পূর্বে সংশ্লিষ্ট শিশুকে নিরাপদ স্থানে প্রেরণের ব্যবস্থা করা;

(চ) প্রতি মাসে শিশুদের মামলার সকল তথ্য প্রতিবেদন আকারে থানা হইতে নির্ধারিত ছকে প্রবেশন কর্মকর্তার নিকট এবং পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এর কার্যালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর ও, ক্ষেত্রমত, জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির নিকট প্রেরণ করা;

(ছ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করা; এবং

(জ) উপরি-উক্ত কার্যাবলি সম্পাদনের প্রয়োজনে অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীর একত্রে চার্জশীট প্রদান নিষিদ্ধ ১৫। ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ২৩৯ অথবা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুকে কোন প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীর সহিত একসঙ্গে কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করিয়া একত্রে চার্জশীট প্রদান করা যাইবে না।
পঞ্চম অধ্যায়
শিশু-আদালত এবং উহার কার্যপ্রণালী
শিশু-আদালত নির্ধারণ, ইত্যাদি ১৬। (১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে এবং উহার অধীন অপরাধ বিচারের জন্য প্রত্যেক জেলা সদরে এবং, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকায় কমপক্ষে একটি আদালত থাকিবে, যাহা শিশু-আদালত নামে অভিহিত হইবে।

(২) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, আইন ও বিচার বিভাগ, সুপ্রিমকোর্ট’ এর সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলা এবং, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকার এক বা একাধিক অতিরিক্ত দায়রা জজ এর আদালতকে শিশু-আদালত হিসাবে নির্ধারণ করিবে এবং একাধিক আদালত নির্ধারণ করা হইলে উহাদের প্রত্যেকটির আঞ্চলিক এখতিয়ার নির্দিষ্ট করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন জেলায় অতিরিক্ত দায়রা জজ না থাকিলে উক্ত জেলা’র জেলা ও দায়রা জজ তাহার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে শিশু-আদালতের দায়িত্ব পালন করিবেন।

শিশু-আদালতের অধিবেশন ও ক্ষমতা ১৭। (১) আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু বা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু কোন মামলায় জড়িত থাকিলে, যেকোন আইনের অধীনেই হউক না কেন, উক্ত মামলা বিচারের এখতিয়ার কেবল শিশু-আদালতের থাকিবে।

(২) কোন মামলায় কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সহিত কোন শিশু জড়িত থাকিলে, ধারা ১৫ এর অধীন পৃথক চার্জশীটের ভিত্তিতে, শিশু-আদালতকে উক্ত প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট শিশুর সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব, একই দিবসে পৃথকভাবে পৃথক অধিবেশনে সম্পন্ন করিতে হইবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উহা একই নিয়মে পরবর্তী কর্মদিবসে বিরতিহীনভাবে অব্যাহত থাকিবে।

(৩) শিশু-আদালত ধারা ১৮ এর বিধানের সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বিধি দ্বারা নির্ধারিত স্থান, দিন এবং পদ্ধতিতে, উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে, উহার অধিবেশন অনুষ্ঠান করিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত শিশু-আদালতের বিচারক তাহার স্বীয় বিবেচনায় বিচারের দিন, ক্ষণ, স্থান নির্ধারণক্রমে, উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে, উহার অধিবেশন আরম্ভ এবং সমাপ্ত করিবেন।

(৪) সাধারণতঃ যে সকল দালান বা কামরায় এবং যে সকল দিবস ও সময়ে প্রচলিত আদালতের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় উহা ব্যতীত, যতদূর সম্ভব, অন্য কোন দালান বা কামরায়, প্রচলিত আদালতের ন্যায় কাঠগড়া ও লালসালু ঘেরা আদালতকক্ষের পরিবর্তে একটি সাধারণ কক্ষে এবং অন্য কোন দিবস ও সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ব্যতীত শুধুমাত্র শিশুর ক্ষেত্রে শিশু-আদালতের অধিবেশন অনুষ্ঠান করিতে হইবে।

শিশু-আদালতের এখতিয়ার ১৮। শিশু-আদালতের এখতিয়ার হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন দায়রা আদালতের ক্ষমতাসমূহ;
(খ) সমন জারি , সাক্ষী তলব ও উপস্থিতি, কোন দলিলাদি বা বস্ত্ত উপস্থাপন এবং শপথ গ্রহণপূর্বক সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারসমূহ।
শিশু-আদালতের পরিবেশ ও সুবিধাসমূহ ১৯। (১) আদালতকক্ষের ধরন, সাজসজ্জা ও আসন বিন্যাস বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(২) শিশু-আদালতের আসন বিন্যাস এমনভাবে করিতে হইবে যেন সকল শিশু বিচার প্রক্রিয়ায় তাহার মাতা-পিতা বা তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ বা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তা ও আইনজীবীর, যতদূর সম্ভব, সন্নিকটে বসিতে পারে।

(৩) উপ-বিধি (১) এর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করিয়া আদালতকক্ষে শিশুর জন্য উপযুক্ত আসনসহ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য, প্রয়োজনে, বিশেষ ধরনের আসন প্রদানের বিষয়টি শিশু-আদালত নিশ্চিত করিবে।

(৪) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত কর্তৃক শিশুর বিচার চলাকালীন, আইনজীবী, পুলিশ বা আদালতের কোন কর্মচারী আদালতকক্ষে তাহাদের পেশাগত বা দাপ্তরিক ইউনিফরম পরিধান করিতে পারিবেন না।

শিশুর বয়স নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক তারিখ ২০। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন, আদালতের রায় বা আদেশে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অপরাধ সংঘটনের তারিখই হইবে শিশুর বয়স নির্ধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক তারিখ।
শিশু-আদালত কর্তৃক বয়স অনুমান ও নির্ধারণ ২১। (১) অভিযুক্ত হউক বা না হউক, এমন কোন শিশুকে কোন অপরাধের দায়ে বা কোন শিশুকে অন্য কোন কারণে শিশু-আদালতে সাক্ষ্য দানের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে, আনয়ন করা হইলে এবং শিশু-আদালতের নিকট তাহাকে শিশু বলিয়া প্রতীয়মান না হইলে উক্ত শিশুর বয়স যাচাই এর জন্য শিশু-আদালত প্রয়োজনীয় তদন্ত ও শুনানি গ্রহণ করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তদন্ত ও শুনানিকালে যেইরূপ সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাইবে তাহার ভিত্তিতে শিশুর বয়স সম্পর্কে শিশু-আদালত উহার মতামত লিপিবদ্ধ করিবে এবং শিশুর বয়স ঘোষণা করিবে।

(৩) বয়স নির্ধারণের উদ্দেশ্যে-

(ক) শিশু-আদালত যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে যেকোন প্রাসঙ্গিক দলিল, রেজিস্টার, তথ্য বা বিবৃতি যাচিতে পারিবে;
(খ) দফা (ক) তে উল্লিখিত দলিল, রেজিস্টার, তথ্য বা বিবৃতি উপস্থাপন করিবার জন্য আদালত যেকোন ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর সাক্ষীর সমন জারি করিতে পারিবে।

(৪) এই ধারার অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক উদ্ঘাটিত এবং কোন শিশুর ঘোষিত বয়স এই আইনের উদ্দেশ্যে উক্ত শিশুর প্রকৃত বয়স বলিয়া গণ্য হইবে এবং পরবর্তীকালে উক্ত বয়স ভ্রমাত্মক প্রমাণিত হইলেও উহার কারণে শিশু-আদালত প্রদত্ত কোন আদেশ বা রায় অকার্যকর বা অবৈধ হইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তিকে ইতঃপূর্বে শিশু-আদালত কর্তৃক শিশু নয় মর্মে ঘোষণা করা হইলেও কোন সন্দেহাতীত দালিলিক প্রমাণ দ্বারা তাহাকে শিশু হিসাবে প্রমাণ করা সম্ভব হইলে উক্ত আদালত, যথাযথ যুক্তি উপস্থাপনপূর্বক, সংশ্লিষ্ট শিশুর বয়স সম্পর্কে প্রদত্ত উহার পূর্বের মতামত পরিবর্তন করিতে পারিবে।

বিচার প্রক্রিয়ায় শিশুর অংশগ্রহণ ২২। (১) বিচার প্রক্রিয়ার সকল স্তরে ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করা সংশ্লিষ্ট শিশুর অধিকার হিসাবে বিবেচিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয় না হইলে শিশু-আদালত, কোন মামলা বা বিচারিক কার্যধারার যেকোন পর্যায়ে, শিশুর সম্মতি সাপেক্ষে, তাহাকে ব্যক্তিগত হাজিরা প্রদান হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মামলা বা কার্যধারা অব্যাহত রাখিতে পারিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ক্ষেত্রে শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে শিশুর তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা শিশুর আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী শিশুর অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য পরিচালনা করা হইলে শিশু-আদালত উক্তরূপ অনুপস্থিতির কারণ নথিতে লিপিবদ্ধ করিবে এবং বিচার কার্য পরিচালনার সময় শিশুর পক্ষে যিনি আদালতে উপস্থিত থাকিবেন, তাহার মাধ্যমে আদালতের গৃহীত পদক্ষেপ ও কার্যক্রম এবং শিশুর পক্ষে বা বিপক্ষে করণীয় ব্যবস্থাদি সম্পর্কে শিশুকে অবহিত করিবে।

(৪) শিশুর পক্ষে নিযুক্তীয় আইনজীবী এবং প্রবেশন কর্মকর্তা আদালতের সিদ্ধান্ত ও আদেশসহ বিচার প্রক্রিয়ার ধরন ও পরিণাম বুঝিবার জন্য সংশ্লিষ্ট শিশুকে, ভাষাসহ, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিবেন।

(৫) মামলা দায়ের বা পরিচালনার ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি সঠিকভাবে অনুসরণে শিশুবিষয়ক বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বা প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে কোন অসাবধানতা, গাফিলতি বা ব্যর্থতা শিশু-আদালতের নিকট গোচরীভূত হইলে উক্ত আদালত তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রবেশন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এবং শিশুবিষয়ক বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এর নিকট, যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, প্রেরণ করিবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদ্‌কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট শিশু-আদালতকে অবহিত করিতে বাধ্য থাকিবে।

শিশু-আদালতের অধিবেশনে উপস্থিতির অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ২৩।এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি শিশু-আদালতের অধিবেশনে উপস্থিত থাকিতে পারিবেন না, যথা :-
(ক) সংশ্লিষ্ট শিশু;
(খ) শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে শিশুর তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য;
(গ) শিশু-আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারী;
(ঘ) শিশু-আদালতে উত্থাপিত মামলা অথবা কার্যধারার পক্ষগণ, শিশুবিষয়ক বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এবং প্রবেশন কর্মকর্তাসহ মামলা অথবা কার্যধারার সহিত সরাসরি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তি; এবং
(ঙ) হাজির থাকিবার বা হইবার জন্য শিশু-আদালত কর্তৃক বিশেষভাবে অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
অভিযুক্ত শিশুর মাতা-পিতা বা অভিভাবকের শিশু-আদালতে উপস্থিতি ২৪। এই আইনের অধীন শিশু-আদালতে হাজিরকৃত শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বর্তমান থাকিলে এবং তিনি বা তাহারা যুক্তিসঙ্গত দূরত্বে বসবাস করিলে শিশু-আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে আদালতে হাজির হইতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ যুক্তিসঙ্গত দূরত্বের বাহিরে বসবাস করিলে,আদালত যুক্তিসঙ্গত সময় নির্ধারণ করিয়া তাহাদিগকে আদালতে হাজির হইতে নির্দেশ প্রদান করিবে।

শিশু ব্যতীত অন্য সকল ব্যক্তিকে শিশু-আদালত হইতে প্রত্যাহার ২৫। (১) শিশু-আদালত প্রয়োজন মনে করিলে, কোন মামলা শুনানিকালে, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে সংশ্লিষ্ট শিশু ব্যতীত ধারা ২৩ এ উল্লিখিত যেকোন ব্যক্তিকে উক্ত আদালত হইতে বহিরাগমণের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত আদালত পরিত্যাগ করিতে বাধ্য থাকিবেন।

(২) শালীনতা বা নৈতিকতা বিরোধী কোন অপরাধ সংক্রান্ত মামলা শুনানিকালে কোন শিশুকে সাক্ষী হিসাবে তলব করা হইলে, সংশ্লিষ্ট মামলা বা কার্যধারার সহিত সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এবং শিশু-আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং প্রবেশন কর্মকর্তা ব্যতীত শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে যাহাদিগকে প্রত্যাহার করা যুক্তিযুক্ত ও সমীচীন হইবে, শিশু-আদালত তাহাদিগকে প্রত্যাহারের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত আদালত পরিত্যাগ করিতে বাধ্য থাকিবেন।

বিচারকালীন শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা ২৬। (১) বিচারকালীন শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার বিষয়টি সর্বশেষ পন্থা হিসাবে বিবেচনা করিতে হইবে, যাহার মেয়াদ হইবে যথাসম্ভব স্বল্পতম সময়ের জন্য।
(২) সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ হেফাজতে রক্ষিত শিশুকে বিকল্পপন্থায় পরিচালনার জন্য প্রেরণ করিতে হইবে।
(৩) শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা একান্ত প্রয়োজন হইলে শিশু-আদালত, সংশ্লিষ্ট শিশুকে উক্ত আদালত হইতে যুক্তিসঙ্গত দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীন কোন শিশুকে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকারী অধিক বয়স্ক শিশুদের হইতে প্রেরিত শিশুকে পৃথক করিয়া রাখিতে হইবে।
ভাষা, দোভাষী ও অন্যান্য বিশেষ সহায়তামূলক পদক্ষেপ ২৭। (১) আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর সাক্ষ্য গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম শিশুর জন্য সরল ও বোধগম্য ভাষায় পরিচালনা করিতে হইবে।

(২) শিশুর সাক্ষ্য গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমসমূহ শিশুর বোধগম্য ভাষায় ব্যাখ্যা করিবার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হইলে আদালত বিনা খরচে শিশুকে একজন ব্যাখ্যাকারী প্রদান করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিবে।

শিশু-আদালতের কার্যক্রমের গোপনীয়তা ২৮। (১) শিশু-আদালতে বিচারাধীন কোন মামলায় জড়িত বা সাক্ষ্য প্রদানকারী কোন শিশুর ছবি বা এমন কোন বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম অথবা ইন্টারনেটে প্রকাশ বা প্রচার করা যাইবে না যাহা সংশ্লিষ্ট শিশুকে শনাক্তকরণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুর ছবি, বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশ করা শিশুর স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হইবে না মর্মে শিশু-আদালতের নিকট প্রতীয়মান হইলে উক্ত আদালত সংশিস্নষ্ট শিশুর ছবি, বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।

শিশু-আদালত কর্তৃক আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর জামিনে মুক্তি প্রদান ২৯। (১) এই আইনসহ ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালতে হাজিরকৃত কোন শিশুর মামলা বিকল্প পন্থায় পরিচালনা করা না হইলে, শিশু-আদালত সংশ্লিষ্ট শিশুকে, অপরাধটি জামিনযোগ্য বা অজামিনযোগ্য যাহাই হউক না কেন, জামানতসহ বা জামানত ছাড়াই জামিনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবে।

(২) শিশুর নিজের মুচলেকায় অথবা শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য, প্রবেশন কর্মকর্তা অথবা কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার, শিশু-আদালত যাহাকে উপযুক্ত বিবেচনা করিবে, তত্ত্বাবধানে জামানত প্রদান সাপেক্ষে অথবা জামানত ছাড়া শিশুকে জামিন প্রদান করা যাইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এবং (২) এর অধীন জামিন মঞ্জুর করা না হইলে শিশু-আদালত উক্তরূপ প্রত্যাখ্যানের কারণ লিপিবদ্ধ করিবে।

শিশু-আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় ৩০। এই আইনের অধীন কোন আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে শিশু-আদালত নিম্নবর্ণিত বিষয় বিবেচনা করিবে, যথা :-
(ক) শিশুর বয়স ও লিঙ্গ;
(খ) শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা;
(গ) শিশুর শিক্ষাগত যোগ্যতা বা শিশু কোন্ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত;
(ঘ) শিশুর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক অবস্থা;
(ঙ) শিশুর পরিবারের আর্থিক অবস্থা;
(চ) শিশুর ও তাহার পরিবারের জীবন-যাপন পদ্ধতি;
(ছ) অপরাধ সংঘটনের কারণ, দলবদ্ধতার তথ্য, সার্বিক পরিস্থিতি ও পটভূমি;
(জ) শিশুর অভিমত;
(ঝ) সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন; এবং
(ঞ) শিশুর সংশোধন ও সর্বোত্তম স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আনুষঙ্গিক যে সকল বিষয় বিবেচনার্থে গ্রহণ করা আবশ্যক ও প্রয়োজন।
সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন ৩১। (১) শিশুকে শিশু-আদালতে হাজির করিবার অনধিক ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে প্রবেশন কর্মকর্তা, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, শিশু-আদালতে একটি সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করিবেন এবং উহার অনুলিপি নিকটস্থ বোর্ড-এ ও অধিদপ্তরে দাখিল করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক শিশুর পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, মনস্তাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা, পটভূমি এবং কোন্ অবস্থায় ও এলাকায় সে বসবাস করে এবং কোন্ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে, ইত্যাদির বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।

(৩) প্রবেশন কর্মকর্তার সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনসহ শিশু সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিবেদন গোপনীয় বলিয়া গণ্য হইবে।

বিচার সমাপ্তির সময়সীমা ৩২। (১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত উক্ত আদালতে শিশুর প্রথম উপস্থিত হইবার তারিখ হইতে ৩৬০ (তিনশত ষাট) দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে।
(২) কোন যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তব কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে শিশু-আদালত, উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা আরও ৬০ (ষাট) দিন বর্ধিত করিতে পারিবে।
(৩) শিশু-আদালতে বিচার আরম্ভ হইবার পর হইতে, বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ধারা ১৭ এর উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে, একাদিক্রমে উহার কার্যক্রম প্রত্যেক কার্যদিবসে বিনা বিরতিতে চলিতে থাকিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করা না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণ্য বা গুরুতর অপরাধের দায়ে দায়েরকৃত মামলা ব্যতীত, শিশু-আদালতের বিবেচনায় তাহার বিরুদ্ধে আনীত লঘু মাত্রার অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবে এবং একই অপরাধের জন্য তাহার বিরু্দ্ধে অন্য কোন বিচার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট মামলায় কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অভিযুক্ত থাকিলে তাহার মামলা অব্যাহত থাকিবে।
শিশুর ওপর নির্দিষ্ট ধরনের দণ্ড আরোপে বাধা-নিষেধ ৩৩। (১) অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কারাদণ্ড প্রদান করা যাইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, কোন শিশুকে যখন এইরূপ কোন মারাত্নক ধরনের অপরাধ সংঘটন করিতে দেখা যায় যে, তজ্জন্য এই আইনের অধীন প্রদানযোগ্য কোন আটকাদেশ আদালতের মতে পর্যাপ্ত নহে, অথবা আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে শিশুটি এত বেশি অবাধ্য অথবা ভ্রষ্ট চরিত্র যে তাহাকে কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা চলে না এবং অন্যান্য যে সকল আইনানুগ পন্থায় মামলাটির সুরাহা হইতে পারে উহাদের কোন একটিও তাহার জন্য উপযুক্ত নহে, তাহা হইলে শিশু-আদালত শিশুকে কারাদণ্ড প্রদান করিয়া কারাগারে প্রেরণের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে :

আরও শর্ত থাকে যে, এইরূপে প্রদেয় কারাদণ্ডেরর মেয়াদ তাহার অপরাধের জন্য প্রদেয় দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদের অধিক হইবে না :

আরও শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ কারাদণ্ডে থাকাকালীন যেকোন সময়ে শিশু-আদালত উপযুক্ত মনে করিলে এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে যে, এইরূপ কারাদণ্ডে আটক রাখিবার পরিবর্তে অভিযুক্ত শিশুকে, তাহার বয়স ১৮ (আঠারো) বৎসর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত, কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে আটক রাখিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর শর্তাংশের অধীন কোন শিশুকে কারাদণ্ড প্রদান করা হইলে, তাহাকে কারাগারে অবস্থানরত অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্ক আসামীর সহিত মেলামেশা করিতে দেওয়া যাইবে না।

শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আটকাদেশ, ইত্যাদি ৩৪। (১) কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দোষী প্রমাণিত হইলে শিশু-আদালত তাহাকে অনুর্ধ্ব ১০ (দশ) বৎসর এবং অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে আটকাদেশ প্রদান করিয়া শিশুউন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

তবে শর্ত থাকে যে, কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় নয় এমন কোন অপরাধে দোষী প্রমাণিত হইলে শিশু-আদালত তাহাকে অনধিক ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে আটকাদেশ প্রদান করিয়া শিশু উন্নয়ন কেণ্দ্রে আটক রাখিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) শিশু-আদালতের আদেশে অথবা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আটকাদেশপ্রাপ্ত শিশুর আচরণ, চারিত্রিক ও ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটিলে এবং হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণ্য বা গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত না হইলে, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ শিশুর বয়স ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইবার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট শিশুকে মুক্তি প্রদানের লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইবার অন্যূন ৩ (তিন) মাস পূর্বে, সরকারের নিকট সুপারিশ প্রেরণ করিতে পারিবে।

(৩) হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, দস্যুতা বা মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত শিশুর বয়স ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইলে এবং মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকিলে অথবা উল্লিখিত অপরাধের মামলায় আদালতের আদেশ অনুযায়ী আটকাদেশপ্রাপ্ত শিশুর বয়স ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইলে, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ, শিশু-আদালতের অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে প্রেরণ করিবে।

(৪) কারাগার কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রেরিত ব্যক্তিকে, কারাগারে অবস্থানরত অন্য কোন আইনের অধীনে দণ্ডপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন আসামীদের হইতে পৃথক করিয়া ভিন্ন ওয়ার্ডে রাখিবার ব্যবস্থা করিবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাহার আটকাদেশের মেয়াদ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আটকাদেশের অবশিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত অবস্থান করিবেন।

(৫) কোন শিশুর বিচার প্রক্রিয়া ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইবার পর সমাপ্ত হইলে এবং বিচার সমাপ্তির পর তাহাকে আটকাদেশ প্রদান করা হইলে উক্ত শিশুকে শিশু-আদালত সরাসরি কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে প্রেরণ করিবে।

(৬) এই ধারায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, কোন শিশুকে উপ-ধারা (১) এর অধীন শিশুউন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার পরিবর্তে যথাযথ সতর্কীকরণের পর খালাস প্রদানের অথবা সদাচারণের জন্য প্রবেশনে মুক্তি দানের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৭) কোন শিশুকে, উপ-ধারা (৬) এর অধীন, প্রবেশনে মুক্তির ক্ষেত্রে শিশু-আদালত সংশ্লিষ্ট শিশুকে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে অথবা তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য অথবা অন্য কোন উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন শিশুকে তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যের অনুকূলে সোপর্দ করা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উক্ত শিশুর, অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কাল, সদাচরণের জন্য দায়ী থাকিবেন মর্মে জামিনসহ বা বিনা জামিনে অথবা আদালত যেইরূপ নির্দেশ প্রদান করিবে সেইরূপ মুচলেকা প্রদান করিতে হইবে।

(৮) প্রবেশন কর্মকর্তার নিকট হইতে রিপোর্ট প্রাপ্তি অথবা অন্য কোনভাবে যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, প্রবেশনে মুক্ত শিশু তাহার প্রবেশনকালে সদাচরণ করে নাই, তাহা হইলে আদালত, যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ তদন্ত করিবার পর, সংশ্লিষ্ট শিশুকে প্রবেশনের অসমাপ্ত সময়ের জন্য প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে আটক রাখিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

নির্দিষ্ট বিরতিতে পর্যালোচনা ও মুক্তি প্রদান ৩৫। (১) শিশু-আদালতের প্রত্যেক আদেশে ইহা নির্দিষ্ট বিরতিতে পর্যালোচনা করিবার বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যাহার মাধ্যমে শিশু-আদালত ইহার প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনা করিতে পারিবে এবং শিশুকে শর্ত সাপেক্ষে বা বিনা শর্তে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবে।

(২) সরকার যেকোন সময়, ধারা ৩৪ এর উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে প্রাপ্ত সুপারিশ বিবেচনা করিয়া, আটকাদেশপ্রাপ্ত শিশুকে শিশুউন্নয়ন কেন্দ্র বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান হইতে বিনা শর্তে বা তদ্কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য বিষয়টি জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।

আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে পরিভাষা ব্যবহার ৩৬। (১) দণ্ডবিধিতে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে, এই আইনে যেইরূপ পরিভাষা ব্যবহার করা হইয়াছে সেইরূপ পরিভাষা ব্যতীত কোন শিশু সম্পর্কে দণ্ডবিধিতে ব্যবহৃত ‘অপরাধী’, ‘দণ্ডিত’ বা ‘দণ্ডাদেশ’ শব্দসমূহ ব্যবহার করা যাইবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে শিশুদের ক্ষেত্রে ‘অপরাধী’, ‘দণ্ডিত’ বা ‘দণ্ডাদেশ’ শব্দসমূহের পরিবর্তে শিশু-আদালত যথাক্রমে ‘দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি’ বা ‘দোষী সাব্যস্তকরণ’ বা ‘দোষী সাব্যস্তকরণ আদেশ’ বা উক্ত আদালতের বিবেচনায় উক্ত শব্দসমূহের পরিপূরক অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করিবে।

বিরোধ মীমাংসা ৩৭। (১) শিশু-আদালতের বিবেচনায় কোন শিশু লঘু প্রকৃতির অপরাধ সংঘটন করিলে, উক্ত আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অপরাধের শিকার ও অপরাধ সংঘটনকারীর মধ্যে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে ধারা ৪৯ এর বিধান, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, প্রযোজ্য হইবে।

(২) প্রবেশন কর্মকর্তা, শিশু-আদালত কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে ও পদ্ধতিতে, সমাজের উপযুক্ত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অপরাধের শিকার ও অপরাধ সংঘটনকারীর মধ্যে বিরোধ মীমাংসার নিমিত্ত কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করিবেন এবং তদানুসারে বিরোধ মীমাংসা করিবেন এবং উহা, যথাশীঘ্র সম্ভব, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন।

(৩) শিশু-আদালত উপ-ধারা (২) অনুসারে তথ্য প্রাপ্তির পর বিষয়টির ওপর প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিবে এবং উহার ওপর করণীয়, যদি থাকে, সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করিয়া অধিদপ্তরকে অবহিত করিবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন নির্দেশনা জারি করা হইলে, অধিদপ্তর উক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতঃ উহার অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতকে অবহিত করিবে।

ক্ষতিপূরণ প্রদান ৩৮। (১) অপরাধের শিকার শিশুর বিরুদ্ধে কোন আসামী দোষী সাব্যস্ত হইলে, উক্ত শিশু বা তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য, প্রবেশন কর্মকর্তা, আইনজীবী বা পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুরোধক্রমে অথবা শিশু-আদালত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হইয়া শিশুকে পূর্বাবস্থায় ফিরাইয়া দেওয়ার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আসামীর প্রতি আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য কোন আদেশ প্রদান করিলে শিশু-আদালত উক্ত আদেশে তদ্কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এককালীন বা কিস্তিতে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য এবং শিশুর কল্যাণে উহার ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিক্-নির্দেশনা প্রদান করিবে।

মাতা-পিতার ওপর ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করিবার আদেশ ৩৯। (১) অপরাধের শিকার শিশুর বিরুদ্ধে কোন শিশু দোষী সাব্যস্ত হইলে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর প্রতি শিশু-আদালত কর্তৃক আর্থিক ক্ষতিপূরণের জন্য আদেশ প্রদান করা হইলে শিশু-আদালত দোষী সাব্যস্ত শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে, উক্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য উক্ত আদেশে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করিবে, যদি,ক্ষেত্রমত, শিশুটির-

(ক) মাতা-পিতা, তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে খুঁজিয়া পাওয়া যায়;
(খ) মাতা-পিতা, তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধে আর্থিকভাবে সচ্ছল হন; এবং
(গ) মাতা-পিতা, তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য শিশুর প্রতি যথাযথ যত্ন-পরিচর্যায় অবহেলা করিয়া তাহাকে অপরাধ সংঘটনে প্রভাবিত করিয়া থাকেন।

(২) এই ধারার অধীন আদেশ প্রদানের নিমিত্ত, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রবেশন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য আদালত নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) শিশুর মাতা-পিতা, আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক শিশুর তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য কর্তৃক ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানে অপারগতার কারণে শিশুকে কারাদণ্ড প্রদান করা যাইবে না।

বিচারের ফলাফল ও মুক্তি সম্পর্কে তথ্য ৪০। (১) বিচার প্রক্রিয়া সমাপ্ত হইবার ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে শিশু-আদালত বিচারের ফলাফল সম্পর্কে শিশু, শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য, শিশুর আইনজীবী ও প্রবেশন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে।

(২) কোন শিশু মুক্তিপ্রাপ্ত হইলে শিশু-আদালত তাহার মুক্তি প্রদানের তথ্য, তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অধিদপ্তর, প্রবেশন কর্মকর্তা বা আইনজীবীর মাধ্যমে অথবা সরাসরি উক্ত শিশু ও তাহার মাতা-পিতাকে এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে অবহিত করিবে।

(৩) কোন মামলায়, উপ-ধারা (২) এর অধীন, কোন শিশু মুক্তিপ্রাপ্ত হইলে এবং উক্ত মামলায় আইনের সংস্পর্শে আসা কোন শিশু জড়িত থাকিলে, শিশু-আদালত সংশ্লিষ্ট মুক্তি প্রদানের তথ্যটি, তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অধিদপ্তর, প্রবেশন কর্মকর্তা বা আইনজীবীর মাধ্যমে অথবা সরাসরি আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও তাহার মাতা-পিতাকে এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে অবহিত করিবে।

আপিল ও পুনর্বিবেচনা ৪১। (১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনা (revision) করিবার ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করিবে না।
(৩) এই ধারার অধীন আপিল বা, ক্ষেত্রমত, পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হইলে উক্ত আবেদনটি দায়েরের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলীর প্রযোজ্যতা ৪২। (১) এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধিতে সুস্পষ্ট ও ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে, এই আইনের অধীন মামলার বিচার এবং কার্যধারা গ্রহণের ক্ষেত্রে, ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য ও অনুসরণ করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কৃত সকল অপরাধ আমলযোগ্য হইবে এবং এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধিতে সুস্পষ্ট বিধান থাকিলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উক্ত বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।

দোষী সাব্যস্ত হইবার কারণে অযোগ্যতার অপসারণ, ইত্যাদি ৪৩। কোন শিশু এই আইন বা অন্য কোন আইনের অধীন কোন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইলেও-
(ক) তাহার ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ধারা ৭৫ বা ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫৬৫ প্রযোজ্য হইবে না;
(খ) তিনি সরকারি বা বেসরকারি কোন অফিসে চাকরি পাইবার অথবা কোন আইনের অধীন কোন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিবার ক্ষেত্রে অযোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন না।
ষষ্ঠ অধ্যায় 
গ্রেফতার, তদন্ত, বিকল্প পন্থা, (Diversion) , এবং জামিন
গ্রেফতার, ইত্যাদি ৪৪। (১) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।

(২) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে নিবর্তনমূলক আটকাদেশ সংক্রান্ত কোন আইনের অধীন গ্রেফতার বা আটক করা যাইবে না।

(৩) শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্ত্ত, ইত্যাদি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন এবং প্রাথমিকভাবে তাহার বয়স নির্ধারণ করিয়া নথিতে লিপিবদ্ধ করিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতার করিবার পর কোন শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা, উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির সময় প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদ্‌ঘাটনপূর্বক যাচাই-বাছাই করিয়া তাহার বয়স লিপিবদ্ধ করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন শিশু কিন্তু সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করিয়াও দালিলিক প্রমাণ দ্বারা তাহা নিশ্চিত হওয়া যায় না, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের বিধান অনুযায়ী শিশু হিসাবে গণ্য করিতে হইবে।

(৫) সংশ্লিষ্ট থানায় শিশুর জন্য উপযোগী কোন নিরাপদ স্থান না থাকিলে গ্রেফতারের পর হইতে আদালতে হাজির না করা সময় পর্যন্ত শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ক্ষেত্রে শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক বা ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন এইরূপ কোন শিশু বা অপরাধী এবং আইনের সংস্পর্শে আসা কোন শিশুর সহিত একত্রে রাখা যাইবে না।

মাতা-পিতা ও প্রবেশন কর্মকর্তাকে অবহিতকরণ ৪৫। (১) কোন শিশুকে গ্রেফতারের পর গ্রেফতারকারী কর্মকর্তা কর্তৃক থানায় আনয়ন করিলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, চতুর্থ অধ্যায়ে বর্ণিত বিধানাবলীকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে-
(ক) শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে;
(খ) প্রবেশন কর্মকর্তাকে; এবং
(গ) প্রয়োজনে, নিকটস্থ বোর্ডকে;-
উক্ত গ্রেফতার সম্পর্কে অবহিত করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রমত, বোর্ডকে অবহিত করা সম্ভব না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশুকে আদালতে হাজির করিবার প্রথম দিবসে উক্তরূপ বিধান অনুসরণ না করিবার কারণ সংবলিত একটি প্রতিবেদন শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক আদালতে দাখিল করিতে হইবে।

তদন্ত ৪৬। এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধিতে সুস্পষ্ট ও ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে, এই আইনের অধীন সকল তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে, ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য ও অনুসরণ করিতে হইবে।
জবানবন্দী, সতর্কীকরণ ও মুক্তি ৪৭। (১) শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মীর উপস্থিতিতে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুর জবানবন্দী গ্রহণ করিবেন।

(২) শিশুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রকৃতি ও শিশুর মানসিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় লইয়া শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা-
(ক) সংশ্লিষ্ট শিশু, শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মীর উপস্থিতিতে শিশুকে লিখিত বা মৌখিক সতর্কীকরণের পর মুক্তি প্রদান করিতে পারিবেন, যাহা শিশুর বিরুদ্ধে রেকর্ড হিসাবে গণ্য হইবে না; বা
(খ) বিকল্প পন্থায় প্রেরণ করিতে পারিবেন।

বিকল্প পন্থা (diversion) ৪৮। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে গ্রেফতার বা আটকের পর হইতে বিচার কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রমের পরিবর্তে, শিশুর পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, নৃতাত্ত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক ও শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনাপূর্বক, বিরোধীয় বিষয় মীমাংসাসহ তাহার সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে বিকল্প পন্থা (diversion) গ্রহণ করা যাইবে।
(২) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুর গ্রেফতারের পর হইতে বিচার কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালত আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নিমিত্ত বিকল্প পন্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি প্রবেশন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার শর্ত প্রতিপালন করিতেছে কি না প্রবেশন কর্মকর্তা তাহা লক্ষ্য রাখিবেন এবং বিষয়টি, সময় সময়, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন।
(৪) শিশু, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে প্রবেশন কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত আকারে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন।
(৫) বিকল্প পন্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৬) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অধিদপ্তর বিকল্প পন্থা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ যুগোপযোগী ও বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে।
পারিবারিক সম্মেলন ৪৯। (১) ধারা ৪৮ এর অধীন বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হইলে প্রবেশন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিরোধ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারিবারিক সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(২) পারিবারিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীগণ সমঝোতার ভিত্তিতে সম্মেলনের কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ ও অনুসরণ করিয়া শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে পরিকল্পনা গ্রহণ করিতে পারিবেন যাহা শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিতে হইবে।
(৩) কোন বিশেষ ক্ষেত্রে কোন শিশুকে বিকল্প পন্থায় প্রেরণের সময় শিশু-আদালত বা ক্ষেত্রমত, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা পারিবারিক সম্মেলনের জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে এবং প্রবেশন কর্মকর্তা সেই মোতাবেক পারিবারিক সম্মেলনের আয়োজন করিবেন।
(৪) শিশু, বা তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য পারিবারিক সম্মেলনে গৃহীত কোন সিদ্ধান্তের শর্ত ভঙ্গ বা প্রতিপালন করিতে ব্যর্থ হইলে প্রবেশন কর্মকর্তা উহা লিখিতভাবে শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন।
(৫) পারিবারিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হইতে ব্যর্থ হইলে সম্মেলনটি বাতিল হইয়া যাইবে এবং ভিন্নরূপ একটি বিকল্প পন্থা গ্রহণের নিমিত্ত প্রবেশন কর্মকর্তা বিষয়টি শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার নিকট ফেরত পাঠাইবেন।
(৬) পারিবারিক সম্মেলনের কার্যক্রমসমূহ গোপনীয় বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কোন ব্যক্তির কোন বক্তব্য পরবর্তীতে কোন আদালতের বিচার কার্যক্রমে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না।
বিকল্প পন্থার মেয়াদ ৫০। (১) এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে বিকল্প পন্থা গ্রহণ ও সমাপ্ত করিতে হইবে।
(২) অপরাধ সংঘটনকারী শিশু বিকল্প পন্থা অবলম্বনে ইতিবাচক সাড়া প্রদান করিলে, বিকল্প পন্থা নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বেই সমাপ্ত করা যাইবে।
বিকল্প পন্থার শর্ত ভঙ্গ বা বিকল্প পন্থার আদেশ পালনে ব্যর্থতা ৫১। এই আইনের বিধান অনুসারে প্রবেশন কর্মকর্তার প্রতিবেদন প্রাপ্ত হইয়া বা অন্য কোনভাবে যদি শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, শিশু, শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার শর্ত ভঙ্গ করিয়াছেন বা বিকল্প পন্থা সংক্রান্ত কোন আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইয়াছেন, তাহা হইলে বিষয়টি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে যাচাইপূর্বক শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা-
(ক) পরিবর্তিত শর্তে একই ধরনের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে;
(খ) শিশুটিকে গ্রেফতার করিবার জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করিতে পারিবে;
(গ) শিশুটিকে শিশু-আদালতে বা থানায় হাজির হইবার জন্য লিখিত নোটিশ প্রদান করিতে পারিবে;
(ঘ) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর নিকট সংশ্লিষ্ট শিশুর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া আরম্ভ করিবার জন্য নথি প্রেরণ করিতে পারিবে;
(ঙ) শিশুটিকে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে; অথবা
(চ) এই আইনের অধীন অন্য কোন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
জামিন, ইত্যাদি ৫২। (১) ফৌজদারি কার্যবিধিসহ বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা এই আইনের অন্য কোন বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর এই আইনের অধীন মুক্তি প্রদান বা বিকল্প পন্থায় প্রেরণ করা অথবা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে হাজির করা সম্ভবপর না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে, ক্ষেত্রমত, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বা প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শর্ত ও জামানত সাপেক্ষে, অথবা, শর্ত ও জামানত ব্যতীত জামিনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শিশুকে জামিনে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধ জামিনযোগ্য বা জামিন অযোগ্য কি না তাহা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বিবেচনায় লইবেন না।
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধের প্রকৃতি গুরুতর বা ঘৃণ্য প্রকৃতির হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে উহা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু কোন কুখ্যাত অপরাধীর সাহচর্য লাভ করিতে পারে বা নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হইতে পারে বা জামিন প্রদান করা হইলে ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হইবার আশঙ্কা থাকিলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিশুকে জামিন বা মুক্তি প্রদান করিবেন না।
(৪) গ্রেফতারকৃত শিশুকে উপ-ধারা (৩) এর অধীন জামিনে মুক্তি প্রদান করা না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, গ্রেফতারের পর আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ সময় ব্যতীত, ২৪ (চবিবশ) ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিশুকে নিকটস্থ শিশু-আদালতে হাজির করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৫) থানা হইতে জামিনপ্রাপ্ত হয় নাই এমন কোন শিশুকে শিশু-আদালতে উপস্থাপন করা হইলে শিশু-আদালত তাহাকে জামিন প্রদান করিবে বা নিরাপদ স্থানে বা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার আদেশ প্রদান করিবে।
আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু সম্পর্কে অবহিত করিবার দায়িত্ব ৫৩। কোন ব্যক্তি যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করেন যে, কোন শিশু অপরাধমূলক ঘটনার শিকার বা কোন অপরাধের সাক্ষী তাহা হইলে তিনি উহা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মীকে অবহিত করিবেন এবং উক্ত ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মী উক্ত শিশুর সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা ও সুরক্ষা ৫৪। (১) বিচার প্রক্রিয়ার সকল পর্যায়ে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, বয়স, লিঙ্গ এবং অক্ষমতা ও পরিপক্কতার বিষয়সমূহ বিবেচনায় লইতে হইবে।

(২) শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক বিশেষ শিশুবান্ধব পরিবেশে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে উক্ত শিশুর মাতা-পিতা অথবা তাহাদের অবর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তার, যাহাদের উপস্থিতিতে শিশু সাক্ষাৎকার প্রদানে রাজি থাকে বা স্বাচ্ছন্দবোধ করে, উপস্থিতিতে একজন মহিলা পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করিতে হইবে।

(৩) আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করিয়া শিশুর সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করিবার জন্য শিশু-আদালত নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করিবার নিমিত্ত আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা :
(ক) বিচার প্রক্রিয়ার সহিত সংশ্লিষ্ট আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর সকল তথ্য গোপন রাখা এবং এমন কোন তথ্য প্রকাশ না করা, যাহার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিশুটিকে শনাক্ত করা যায়;

(খ) সাক্ষ্য প্রদানকারী শিশুর ছবি বা দৈহিক বর্ণনা গোপন করিবার উদ্যোগ গ্রহণ অথবা শিশুর ক্ষতি প্রতিরোধ করিবার জন্য, প্রাপ্যতা সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে শিশুর সাক্ষ্য গ্রহণ করা:-
(অ) পর্দার আড়ালে;
(আ) শুনানির পূর্বে শিশু-সাক্ষীর ভিডিওকৃত সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে, তবে উক্ত ক্ষেত্রে সাক্ষ্য গ্রহণকালে আসামীপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট শিশুকে জেরা করিবার সুযোগ প্রদান করিতে হইবে;
(ই) একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ও উপযু্ক্ত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে;
(ঈ) দ্বারবদ্ধ (Camera Trial) অধিবেশন পরিচালনার মাধ্যমে; বা
(উ) ভিডিও লিংকেজ পদ্ধতি চালু হইলে উক্ত পদ্ধতিতে;

(গ) আসামীর উপস্থিতিতে শিশু সাক্ষ্য প্রদানে অসম্মতি জ্ঞাপন করিলে বা যদি এইরূপ প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে শিশুটি সত্য কথা বলিতে বাধাগ্রস্ত হইতে পারে, তাহা হইলে আসামীকে সাময়িকভাবে পুলিশের হেফাজতে আদালত পরিত্যাগের আদেশ প্রদান করা; তবে উক্ত ক্ষেত্রে আসামী পক্ষের আইনজীবীকে আদালত কক্ষে উপস্থিত থাকিতে এবং শিশুকে প্রশ্ন করিবার সুযোগ প্রদান করিতে হইবে;

(ঘ) শিশুর সাক্ষ্য গ্রহণের সময় বিরতির সুযোগ প্রদান করা;

(ঙ) শিশুর বয়স ও পরিপক্কতার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ দিন ও তারিখে শুনানির সময়সূচি নির্ধারণ করা; এবং

(চ) মামলার সাক্ষী বা ভিকটিম হিসাবে সাক্ষ্য প্রদানকালে, সাক্ষ্য প্রদানের পূর্বে ও পরে শিশুকে তাহার অভিভাবকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান করা; বা

(ছ) শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ এবং আসামীর অধিকার বিবেচনায় আনিয়া আদালত যেইরূপ বিবেচনা করিবে, সেইরূপ অন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা।

(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করিয়া শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করিবার জন্য শিশু-আদালত পদ্ধতি নির্ধারণপূর্বক বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ মীমাংসার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

সপ্তম অধ্যায়
আইনগত প্রতিনিধিত্ব ও সহায়তা
আইনগত প্রতিনিধিত্ব, ইত্যাদি ৫৫। (১) আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু এবং আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিত্ব ব্যতীত কোন আদালত কোন মামলার বিচার কার্য পরিচালনা করিবে না।
(২) শিশু তাহার আইনগত প্রতিনিধিকে নিজের ভাষায় এবং, ক্ষেত্রমত, ব্যাখ্যাকারীর সাহায্যে প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করিবার অধিকার সংরক্ষণ করিবে।
(৩) শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য কর্তৃক কোন আইনজীবী নিয়োগ করা না হইলে অথবা মাতা-পিতা অথবা তাহাদের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য না থাকিলে অথবা আইনজীবী নিয়োগের আর্থিক সামর্থ্য না থাকিলে, শিশু-আদালত জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটি বা, ক্ষেত্রমত, সুপ্রিম কোর্ট’ এর তালিকাভুক্ত বা প্যানেলভুক্ত আইনজীবীগণের মধ্য হইতে একজন উপযুক্ত আইনজীবীকে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রদান করিবার লক্ষ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এবং উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা, প্রবিধানমালা ও নীতিমালা অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
আইনগত প্রতিনিধির উপস্থিতি ৫৬। (১) ধারা ৫৫ এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন শিশুর পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট মামলার সকল শুনানীতে অবশ্যই হাজির থাকিতে হইবে এবং যুক্তিসঙ্গত কোন কারণে তিনি মামলা পরিচালনা করিতে অপরাগ হইলে উক্ত অপারগতার কারণসহ বিষয়টি লিখিতভাবে, যুক্তিসঙ্গত সময়ে, তাহার প্রতিনিধি, শিশুর মাতা-পিতা অথবা তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বা প্রবেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত করিতে হইবে।
(২) কোন আইনজীবী উপ-ধারা (১) এর অধীন তাহার অপরাগতার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করিলে, উক্ত ক্ষেত্রে একজন নূতন আইনজীবী নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানি স্থগিত থাকিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, নূতন আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা’র জেলা আইনগত সহায়তা কমিটি কোনক্রমেই ৩০ (ত্রিশ) দিনের অতিরিক্ত সময় অতিক্রান্ত করিবে না।
(৩) শিশুর পক্ষে শিশুর মাতা-পিতা অথবা তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য কর্তৃক আইনজীবী নিয়োগ করা হইলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট মামলার সকল শুনানিতে অবশ্যই হাজির থাকিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, প্রয়োজনে, যুক্তিসঙ্গত কারণে, শিশু আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, মামলার শুনানী হইতে অব্যাহতি যাচিতে পারিবেন।
অপর্যাপ্ত আইনগত প্রতিনিধিত্ব ও অসদাচরণ ৫৭। শিশুর পক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত বারংবার আদালতে অনুপস্থিত থাকিলে বা মামলা পরিচালনায় তাহার সুস্পষ্ট গাফিলতি পরিলক্ষিত হইলে শিশু-আদালত তাহাকে উক্ত মামলা পরিচালনার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিয়া বিষয়টি অসদাচরণ গণ্যে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির চেয়ারম্যানকে এবং, ক্ষেত্রমত, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতিকে নির্দেশনা প্রদান করিবে এবং উক্তরূপ নির্দেশনার আলোকে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে আদালতকে নির্দেশনা প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অবহিত করিবার বিষয়টি উল্লেখ করিবে।
সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ ৫৮। বিচার প্রক্রিয়ার যেকোন পর্যায়ে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা, ক্ষেত্রমত, আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা রহিয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হইলে সংশ্লিষ্ট শিশুর তত্ত্বাবধানকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত শিশুর জন্য নিম্নবর্ণিত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে, যথা :-
(ক) সংশ্লিষ্ট শিশুর সহিত অভিযুক্ত ব্যক্তির সরাসরি সাক্ষাৎ পরিহার করা;
(খ) পুলিশ বা অন্য সংস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিশুর নিরাপত্তা বিধান এবং উক্ত শিশু কোথায় অবস্থান করিতেছে তাহা গোপন রাখা;
(গ) আদালত বা পুলিশের নিকট সংশ্লিষ্ট শিশুর এবং, প্রয়োজনে, শিশুর পরিবারের সদস্যদের সকল পর্যায়ে যথোপযুক্ত নিরাপত্তার জন্য আবেদন করা।
অষ্টম অধ্যায়
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র এবং প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও প্রত্যয়ন ৫৯। (১) সরকার, বিচার প্রক্রিয়ায় আটকাদেশপ্রাপ্ত শিশু এবং বিচারের আওতাধীন শিশুর আবাসন, সংশোধন ও উন্নয়নের লক্ষে, লিঙ্গভেদে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর প্রাসঙ্গিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া সরকার, যেকোন সময়, উহার যেকোন ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানকে শিশু অপরাধীদেরকে অবস্থানের জন্য উপযুক্ত মর্মে প্রত্যয়ন করিতে পারিবে।
(৩) সরকার উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বা, ক্ষেত্রমত, উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে আগত ও অবস্থানরত শিশুদের আবাসন, সংশোধন, উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার নিমিত্ত নীতিমালা প্রণয়ন বা, সময় সময়, পরিপত্র জারি করিবে।
বেসরকারি উদ্যোগে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান ৬০। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি বা নীতিমালার আলোকে, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান হিসাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করিবার লক্ষ্যে, নির্ধারিত শর্তপূরণ সাপেক্ষে, অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
বৈধ প্রত্যয়নপত্র ব্যতীত প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দণ্ড ৬১। বৈধ প্রত্যয়নপত্র ব্যতীত ধারা ৬০ এ উল্লিখিত কোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিতে ব্যর্থ কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা অব্যাহত রাখা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক বা কর্মকর্তা ৫ (পাঁচ) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুদের বিষয়ে অধিদপ্তরকে অবহিতকরণ ৬২। ধারা ৫৯ এবং ৬০ এর অধীন সরকারি বা, ক্ষেত্রমত, বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান প্রতিটি শিশুর নাম, লিঙ্গ, বয়স ও উক্ত প্রতিষ্ঠানে শিশুকে গ্রহণ করিবার কারণসহ গ্রহণের তারিখ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে লিপিবদ্ধ করিয়া, অধিদপ্তরকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অবহিত করিবে এবং অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য সকল তথ্য অধিদপ্তরকে সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
পরিচর্যার ন্যূনতম মানদণ্ড (Minimum Standards of Care) ৬৩। (১) সরকার, সময় সময়, অফিস আদেশ বা নির্দেশনা জারির মাধ্যমে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুদের যথাযথ পরিচর্যার জন্য ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করিবে এবং প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ উক্ত আদেশ বা নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যার ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখিবে।

(২) প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুদের অপরাধের মাত্রা, ধরণ ও বয়স বিবেচনায় লইয়া বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করিয়া রাখিতে হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত শ্রেণি বিভাগের সময় বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখিতে হইবে যেন, ৯ (নয়) বৎসরের ঊর্ধ্বের কোন শিশুর সহিত ১০ (দশ) বৎসরের এবং ১০ (দশ) বৎসরের ঊর্ধ্বের কোন শিশুর সহিত ১২ (বার) বৎসরের ঊর্ধ্বের শিশুকে একত্রে একই কক্ষে এবং ফ্লোরে রাখা না হয়;

আরও শর্ত থাকে যে, ১২ (বার) বৎসর এবং তদুর্ধ্ব বয়সের বয়স্ক শিশুর ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা, শিশুর বাড়ন্ত শারীরিক কাঠামো, সবলতা, ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় লইয়া তাহাদের আবাসনের বিষয়টি সতর্কভাবে খেয়াল রাখিতে হইবে এবং, যতদূর সম্ভব, তাহাদের পৃথক পৃথক কক্ষে রাখিবার ব্যবস্থা করিতে হইবে।

(৩) দণ্ডবিধির ধারা ৮২ এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে ৯ (নয়) বৎসর বয়সের কম বয়সী কোন শিশুকে কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে রাখা যাইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, কোন কারণে ৯ (নয়) বৎসর বয়সের কম বয়সী অভিভাবকহীন কোন শিশুকে কোথাও পাওয়া গেলে তাহাকে অধিদপ্তর বা উহার নিকটস্থ কোন কার্যালয়ে প্রেরণ করিতে হইবে এবং অধিদপ্তর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বোর্ডের গোচরীভূত করতঃ সংশ্লিষ্ট শিশুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশু গণ্যে, ক্ষেত্রমত, ধারা ৮৪ বা ধারা ৮৫ এর বিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(৪) প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ, উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকারী, প্রত্যেক শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা এবং তাহাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, মানবিক আচরণ এবং যথোপযুক্ত শিক্ষাসহ কারিগরী শিক্ষা নিশ্চিত করিবে।

সরকার বা উহার প্রতিনিধি কর্তৃক প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ৬৪। সরকার বা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তদ্‌কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, দাপ্তরিক বা বিশেষ কোন প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে, যেকোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করিতে পারিবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্থানান্তর ৬৫। অধিদপ্তর, বিশেষ প্রয়োজনে, একটি শিশুকে এক প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান হইতে অন্য প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
অন্য প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর ৬৬। কোন প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়িত মর্যাদা লোপ পাইলে এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের আদেশক্রমে উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুদের অন্য কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে বদলি বা স্থানান্তর করা যাইবে।
সরকারের প্রত্যয়নপত্র প্রত্যাহারের ক্ষমতা ৬৭। কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুদের যথাযথ পরিচর্যার জন্য, ধারা ৬৩ এর অধীন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পরিচর্যার ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখিতে ব্যর্থ হইলে, সরকার উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতি নোটিশ জারি করিয়া নোটিশে উল্লিখিত তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়ন প্রত্যাহার করা হইল মর্মে ঘোষণা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ নোটিশ জারির পূর্বে, প্রত্যয়নপত্র কেন প্রত্যাহার করা হইবে না তাহার কারণ দর্শাইবার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।
শিশুর ওপর জিম্মাদারের নিয়ন্ত্রণ ৬৮। এই আইনের বিধানাবলীর অধীন কোন ব্যক্তি বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে কোন শিশুকে সোপর্দ করা হইলে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উক্ত শিশুকে তাহার মাতা-পিতার ন্যায় নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করিবার জন্য দায়ী থাকিবেন এবং সংশ্লিষ্ট শিশুর মাতা-পিতা বা অন্য কোন ব্যক্তি দাবী করা সত্ত্বেও শিশু-আদালত বা বোর্ড বা অন্য কোন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শিশুটিকে অব্যাহতভাবে তাহার তত্ত্বাবধানে রাখিবেন।
পলাতক শিশু সম্পর্কে করণীয় ৬৯। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন এবং এই আইনের অন্যান্য বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান অথবা যে ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকিবার জন্য শিশুকে নির্দেশ প্রদান করা হইয়াছিল, তাহার তত্ত্বাবধান হইতে কোন শিশু পলায়ন করিলে উক্ত পলাতক শিশুকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করিতে পারিবেন এবং উক্ত শিশুর কোন অপরাধ নথিভুক্ত না করিয়া বা তাহার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের না করিয়া তাহাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিকট ফেরত পাঠাইবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ পলাতক হইবার কারণে উক্ত শিশু কোন অপরাধ করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পলাতক কোন শিশুকে গ্রেফতার করা হইলে তাহাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিকট ফেরৎ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে রাখিতে হইবে।

নবম অধ্যায়
শিশু সংক্রান্ত বিশেষ অপরাধসমূহের দণ্ড
শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার দণ্ড ৭০। কোন ব্যক্তি যদি তাহার হেফাজতে, দায়িত্বে বা পরিচর্যায় থাকা কোন শিশুকে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ ব্যক্তিগত পরিচর্যার কাজে ব্যবহার বা অশালীনভাবে প্রদর্শন করে এবং এইরূপভাবে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, পরিত্যাগ ব্যক্তিগত পরিচর্যা বা প্রদর্শনের ফলে উক্ত শিশুর অহেতুক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাস্থ্যের এইরূপ ক্ষতি হয়, যাহাতে সংশ্লিষ্ট শিশুর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়, শরীরের কোন অঙ্গ বা ইন্দ্রিয়ের ক্ষতি হয় বা কোন মানসিক বিকৃতি ঘটে, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োগের দণ্ড ৭১। কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেন বা কোন শিশুর দ্বারা ভিক্ষা করান অথবা শিশুর হেফাজত, তত্ত্বাবধান বা দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগদানে প্রশ্রয়দান করেন বা উৎসাহ প্রদান করেন বা ভিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শিশুর দায়িত্বে থাকাকালে নেশাগ্রস্ত হইবার দণ্ড ৭২। শিশুর দেখাশুনার দায়িত্বে থাকাকালে কোন ব্যক্তিকে যদি প্রকাশ্য স্থানে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এই কারণে যদি তিনি শিশুটির যথাযথ তত্ত্বাবধান করিতে অসমর্থ হন, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শিশুকে নেশাগ্রস্তকারী মাদকদ্রব্য কিংবা বিপজ্জনক ঔষধ প্রদানের দণ্ড ৭৩। যদি কোন ব্যক্তি অসুস্থতা বা অন্য কোন জরুরী কারণে উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তারের আদেশ ব্যতীত কোন শিশুকে নেশাগ্রস্তকারী মাদকদ্রব্য বা ঔষধ প্রদান করে বা করায়, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
মাদকদ্রব্য কিংবা বিপজ্জনক ঔষধ বিক্রয়ের স্থানসমূহে প্রবেশের অনুমতিদানের দণ্ড ৭৪। যদি কোন ব্যক্তি কোন শিশুকে মাদক বা বিপজ্জনক ঔষধ বিক্রয়ের স্থানে লইয়া যায় অথবা এইরূপ স্থানের স্বত্ত্বাধিকারী, মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে অনুরূপ স্থানে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করে অথবা কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ স্থানে কোন শিশুর গমনের কারণ সৃষ্টি করেন, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শিশুকে বাজি ধরিতে বা ঋণ গ্রহণে উসকানি প্রদানের দণ্ড ৭৫। যদি কোন ব্যক্তি মৌখিকভাবে, লিখিত শব্দ দ্বারা, কোন প্রকার ইঙ্গিত দ্বারা বা অন্য কোনভাবে কোন শিশুকে কোন বাজি ধরিতে বা পণ রাখিতে অথবা কোন বাজি বা পণভিত্তিক লেনদেনে অংশগ্রহণ করিতে বা শেয়ার লইতে উসকানি প্রদান করে বা প্রদানের চেষ্টা করে অথবা অনুরূপভাবে কোন শিশুকে ঋণ গ্রহণ করিতে বা ঋণ গ্রহণমূলক লেনদেনে অংশগ্রহণ করিতে উসকানি প্রদান করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শিশুর নিকট হইতে দ্রব্যাদি বন্ধক গ্রহণ বা ক্রয় করিবার দণ্ড ৭৬। কোন ব্যক্তি কোন শিশুর নিকট হইতে কোন দ্রব্য, তাহা উক্ত শিশুর পক্ষ হইতে বা অন্য কোন ব্যক্তির পক্ষ হইতে প্রদেয় হউক না কেন, বন্ধক গ্রহণ করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শিশুকে যৌনপল্লীতে থাকিবার অনুমতিদানের দণ্ড ৭৭। (১) ৪ (চার) বৎসরের অধিক বয়সের কোন শিশুকে যৌনপল্লীতে বাস করিতে কিংবা গমনাগমন করিতে সুযোগ বা অনুমতি প্রদান করা যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, ৪ (চার) বৎসর বয়স অতিক্রান্ত হইবার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত শিশুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশু গণ্যক্রমে, ক্ষেত্রমত, ধারা ৮৪ বা ধারা ৮৫ এর অধীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরে বা উহার নিকটস্থ কার্যালয়ে প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন।
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শিশুকে অসৎ পথে পরিচালনা করানো বা করিতে উৎসাহদানের দণ্ড ৭৮। (১) কোন ব্যক্তি কোন শিশুর প্রকৃত দায়িত্বসম্পন্ন হইয়া বা তাহার তত্ত্বাবধানকারী হইয়া তাহাকে অসৎ পথে পরিচালিত করিলে কিংবা যৌনবৃত্তিতে প্রবৃত্ত করিলে বা তজ্জন্য উৎসাহ প্রদান করিলে অথবা স্বামী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির সহিত তাহার যৌন সঙ্গম করাইলে বা তজ্জন্য উৎসাহ প্রদান করিলে, উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তির নালিশের পরিপ্রেক্ষিতে যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন শিশু তাহার মাতা-পিতা অথবা তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যের জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে অসৎ পথে পরিচালিত হইতেছে বা যৌনবৃত্তিতে লিপ্ত হইবার ঝুঁকির সম্মুখীন হইতেছে, তাহা হইলে আদালত এইরূপ শিশুর বিষয়ে উপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং তদারকি করিবার জন্য একটি মুচলেকা সম্পাদন করিতে, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট মাতা-পিতা, তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ, আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
[ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যে সেই ব্যক্তি কোন শিশুকে অসৎ পথে বা যৌনবৃত্তিতে পরিচালিত করাইয়াছেন বা তজ্জন্য উৎসাহ প্রদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি উক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে কোন যৌনকর্মী কিংবা ভ্রষ্ট চরিত্র বলিয়া জ্ঞাত ব্যক্তির সহিত বাস করিতে বা তাহার অধীন চাকুরিতে নিয়োজিত হইতে বা থাকিতে জ্ঞাতসারে অনুমতি প্রদান করিয়া থাকেন।]
শিশুর দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্র বা অবৈধ ও নিষিদ্ধ বস্ত্ত বহন এবং সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের দণ্ড ৭৯। (১) যদি কোন ব্যক্তি কোন শিশুর দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্র বা অবৈধ ও নিষিদ্ধ বস্ত্ত বহন করান বা পরিবহন করান, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি শিশুর প্রকৃত দায়িত্বসম্পন্ন বা তত্ত্বাবধানকারী ইউক, বা না হউক, কোন শিশুকে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৬ নং আইন) এর ধারা ৬ এ উল্লিখিত কোন সন্ত্রাসী কার্যে নিয়োজিত করিলে বা ব্যবহার করিলে তিনি স্বয়ং উক্ত সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য তিনি উক্ত ধারায় উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শিশুকে শোষণের দণ্ড ৮০। (১) শিশু-আদালত কর্তৃক শিশুর জিম্মাদার, রক্ষণাবেক্ষণকারী, প্রতিপালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা অন্য কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভৃত্যের চাকরী বা শ্রম আইন, ২০০৬ এর বিধান মোতাবেক কোন কারখানা কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োগের কথা বলিয়া হস্তগত করে, কিন্তু কার্যতঃ শিশুকে নিজ স্বার্থে শোষণ করে, আটকাইয়া রাখে অথবা তাহার উপার্জন ভোগ করে, তাহা হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) শিশু-আদালত কর্তৃক শিশুর জিম্মাদার, রক্ষণাবেক্ষণকারী বা প্রতিপালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা অন্য কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভৃত্যের চাকুরী বা শ্রম আইন, ২০০৬ এর বিধান মোতাবেক কোন কারখানা কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োগের কথা বলিয়া হস্তগত করে, কিন্তু কার্যতঃ শিশুকে অসৎ পথে চালিত করে বা যৌনকর্ম কিংবা নীতি-গর্হিত কোন কাজে লিপ্ত হইবার ঝুঁকির সম্মুখীন করে, তাহা হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) বা (২) এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে শোষিত বা কাজে লাগানো শিশুর শ্রমের ফল ভোগ করিলে অথবা নৈতিকতা বিরোধী বিনোদনের কাজে শিশুকে ব্যবহার করিলে তিনি সংশ্লিষ্ট দুষ্কর্মের সহায়তার জন্য দায়ী হইবেন।
সংবাদ মাধ্যম কর্তৃক কোন গোপন তথ্য প্রকাশের দণ্ড ৮১। (১) এই আইনের অধীন বিচারাধীন কোন মামলা বা বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন শিশুর স্বার্থের পরিপন্থী এমন কোন প্রতিবেদন, ছবি বা তথ্য প্রকাশ করা যাইবে না, যাহার দ্বারা শিশুটিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শনাক্ত করা যায়।
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) কোন কোম্পানী, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানী, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন অনধিক ২ (দুই) মাসের জন্য স্থগিত রাখাসহ উহাকে অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করা যাইবে।
শিশুকে পলায়নে সহায়তার দণ্ড ৮২। কোন ব্যক্তি, জ্ঞাতসারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান, নিরাপদ স্থান বা বিকল্প পন্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধান হইতে কোন শিশুকে,-
(ক) পলায়ন করিতে সাহায্য করিলে বা প্রলুব্ধ করিলে; অথবা
(খ) পলায়ন করিবার পর আশ্রয় প্রদান করিলে, লুকাইয়া রাখিলে বা পুনরায় উক্ত স্থান বা ব্যক্তির নিকট প্রত্যাবর্তন করিতে বাধা প্রদান করিলে বা বাধা প্রদানে সাহায্য করিলে,-
তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
মিথ্যা তথ্য প্রদানের ক্ষতিপূরণ ৮৩। কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন মামলার কার্যক্রমে কোন আদালতে কোন শিশুর সম্পর্কে যদি এমন কোন তথ্য প্রকাশ করেন যাহা মিথ্যা, বিরক্তিকর বা তুচ্ছ প্রকৃতির তাহা হইলে আদালত, প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, যাহার বিপক্ষে উক্ত তথ্য প্রদান করা হয় তাহার অনুকূলে ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকার ঊর্ধ্বে যেকোন পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদান করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদানকারীর প্রতি নির্দেশ প্রদান করিতে এবং অনাদায়ে অনধিক ৬ (ছয়) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদানের পূর্বে, তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে কেন ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবার আদেশ প্রদান করা হইবে না তদ্‌মর্মে কারণ দর্শাইবার জন্য নোটিশ প্রদান করিতে হইবে এবং তথ্য প্রদানকারী কোন কারণ প্রদর্শন করিলে তাহা বিবেচনায় লইতে হইবে।
দশম অধ্যায়
বিকল্প পরিচর্যা, ইত্যাদি
বিকল্প পরিচর্যা (alternative care) ৮৪। (১) সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু, যাহাদের বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন, তাহাদের পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, নৃতাত্ত্বিক, মনস্তাত্বিক ও শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনাপূর্বক, সার্বিক কল্যাণ ও সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে, বিকল্প পরিচর্যার (alternative care) উদ্যোগ গ্রহণ করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিকল্প পরিচর্যায় প্রেরণের পূর্বে ধারা ৯২ অনুযায়ী শিশুর যাচাই (assessment) সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিবেচনা করিতে হইবে।
(২) বিকল্প পরিচর্যার উপায় ও ধরন নির্ধারণ করিবার সময় শিশুর মাতা-পিতার সহিত পুনঃএকীকরণের (re-integration) বিষয়টিকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিবেচনা করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, মাতা-পিতার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়া থাকিলে বা অন্য কোন কারণে তাহারা পৃথকভাবে বসবাস করিলে, যতদূর সম্ভব, শিশুর মতামতকে প্রাধান্য প্রদানপূর্বক, মাতা-পিতার মধ্যে যে কোন একজনের সহিত পুনঃএকীকরণ করিতে হইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, শিশুর মতামতকে প্রাধান্য প্রদানের পূর্বে মাতা-পিতার পৃথকভাবে বসবাসের কারণসহ তাহাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত হইতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী মাতা-পিতার সহিত পুনঃএকীকরণ সম্ভব না হইলে, বর্ধিত পরিবারের সহিত পুনঃএকীকরণ করা যাইবে, অথবা মাতা-পিতার অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা অন্য কোন উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট সমাজভিত্তিক একীকরণের (community based integration) উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা যাইবে।
(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশুকে ধারা ৮৫ তে উল্লিখিত কোন প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা যাইবে।
(৫) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে যদি এইরূপ প্রতীয়মান হয় যে, শিশুর মাতা-পিতা শিশুকে কোন অনৈতিক বা বেআইনী কোন কাজে নিয়োজিত করিতে পারে তাহা হইলে, উক্ত মাতা-পিতার উক্তরূপ অবস্থা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য, শিশুকে ধারা ৮৫ তে উল্লিখিত কোন প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করিতে হইবে এবং শিশুটিকে যাহাতে তাহার মাতা-পিতার সহিত পুনঃএকীকরণ করা যায় তদ্‌লক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট মাতা-পিতাকে পুনর্বাসনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৬) বিকল্প পরিচর্যার প্রক্রিয়া, পদ্ধতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা ৮৫। সুবিধাবঞ্চিত যে সকল শিশুর জন্য ধারা ৮৪ এর উপ-ধারা (২) ও (৩) অনুযায়ী মাতা-পিতাকেন্দ্রিক পরিচর্যা বা অ-প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা যাইবে না, অধিদপ্তর, এতদুদ্দেশ্যে সরকার প্রণীত নীতিমালার আলোকে, নিম্নরূপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাহাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা নিশ্চিত করিবে, যথা :
(ক) সরকারি শিশু পরিবার;
(খ) ছোটমণি নিবাস;
(গ) দুঃস্থ শিশুদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র;
(ঘ) সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র; এবং
(ঙ) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
বিকল্প পরিচর্যা নির্ধারণকারী ৮৬। শিশু কল্যাণ বোর্ড বা প্রবেশন কর্মকর্তা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় আনিয়া শিশুর জন্য সবচাইতে উপযুক্ত পরিচর্যার উপায় নির্ধারণ করিবেন।
অধিদপ্তর কর্তৃক বিকল্প পরিচর্যা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ৮৭। অধিদপ্তর এই আইনের অধীন বিকল্প পরিচর্যার নিমিত্ত নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে, যথা :-
(ক) শিশুর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করিবার জন্য তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে কাউন্সেলিংসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের জন্য প্রকল্প বা কর্মসূচি গ্রহণ;
(খ) শিশুর বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, জীবিকা অর্জনের উপায় নির্ধারণ এবং মাতা-পিতার সহিত পুনঃএকীকরণের লক্ষ্যে কাউন্সেলিংসহ যথাযথ ও যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ;
(গ) দফা (ক) এবং (খ) তে বর্ণিত বিষয়সমূহের বাস্তব অবস্থা ও তথ্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত হইবার জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে মনিটরিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ।
(ঘ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রাসঙ্গিক অন্য যেকোন পদক্ষেপ গ্রহণ।
বিকল্প পরিচর্যার মেয়াদ ও অনুসরণ (Follow-up) ৮৮। (১) শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ সংরক্ষণে বিকল্প পরিচর্যার মেয়াদ স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি হইতে পারিবে।
(২) প্রবেশন কর্মকর্তা শিশু এবং তাহার পরিবারের অভিমত বিবেচনায় লইয়া গৃহীত বিকল্প পরিচর্যা নির্দিষ্ট বিরতিতে পুনর্বিবেচনা করিবেন।
(৩) নির্দিষ্ট বিরতিতে পুনর্বিবেচনার অংশ হিসাবে প্রবেশন কর্মকর্তা শিশুর বিকল্প পরিচর্যা নিয়মিত পরিদর্শন করিবেন এবং, ক্ষেত্রমত, জেলা বা উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড বা অধিদপ্তরকে উক্ত বিষয়ে অবহিত করিবেন।
(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পুনর্বিবেচনার ওপর ভিত্তি করিয়া প্রবেশন কর্মকর্তা প্রয়োজনে, এই আইনের অধীন অন্য কোন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় বিবেচনার জন্য অধিদপ্তরের নিকট সুপারিশ করিতে পারিবেন।
সুবিধাবঞ্চিত শিশু ৮৯। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত শিশুগণ সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসাবে গণ্য হইবে, যথা:-
(ক) যে শিশুর মাতা-পিতার যেকোন একজন বা উভয় মৃত্যুবরণ করিয়াছে;
(খ) আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবকহীন শিশু;
(গ) নির্দিষ্ট কোন গৃহ বা আবাসস্থলহীন এবং জীবনধারণের জন্য দৃশ্যমান অবলম্বনহীন কোন শিশু;
(ঘ) ভিক্ষাবৃত্তি বা শিশুর মঙ্গলের পরিপন্থী কোন কার্যে লিপ্ত শিশু;
(ঙ) কারাভোগরত মাতা-পিতার ওপর নির্ভরশীল বা কারাভোগরত মাতার সহিত কারাগারে অবস্থানরত শিশু;
(চ) যৌন নির্যাতন বা হয়রানির শিকার শিশু;
(ছ) যৌনবৃত্তি বা সমাজবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি বা অপরাধীর বাসস্থান বা কর্মস্থলে অবস্থানকারী বা গমনাগমনকারী শিশু;
(জ) যে কোন ধরনের প্রতিবন্ধী শিশু;
(ঝ) মাদক বা অন্য কোন কারণে অস্বাভাবিক আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিশু;
(ঞ) অসৎ সঙ্গে পতিত বা নৈতিক অবক্ষয়ের সম্মুখীন হইতে পারে অথবা অপরাধ জগতে প্রবেশের ঝুঁকির সম্মুখীন শিশু;
(ট) বস্তিতে বসবাসকারী শিশু;
(ঠ) রাস্তা-ঘাটে বসবাসকারী গৃহহীন শিশু;
(ড) হিজড়া শিশু;
(ঢ) বেদে ও হরিজন শিশু;
(ণ) এইচআইভি-এইড্‌স এ আক্রান্ত (infected) বা ক্ষতিগ্রস্ত (affected) শিশু; অথবা
(ত) শিশু-আদালত বা বোর্ড কর্তৃক বিবেচিত কোন শিশু, যাহার বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

(২) সরকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুর বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।

ব্যক্তি বা সংস্থা কর্তৃক শিশুকে প্রেরণ, ইত্যাদি ৯০। (১) কোন ব্যক্তি বা সংস্থা সুবিধাবঞ্চিত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাত জড়িত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, এতদ্‌সংক্রান্ত কোন সংবাদ প্রাপ্ত হইলে, উক্ত ব্যক্তি বা সংস্থা সংশ্লিষ্ট শিশুকে বা উক্ত সংবাদ-
(ক) নিকটস্থ থানায়, প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মীর নিকট প্রেরণ করিবেন; অথবা
(খ) অধিদপ্তর বা উহার নিকটস্থ কার্যালয়ে প্রেরণ করিবেন।

(২) প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মী সুবিধাবঞ্চিত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, এতদ্‌সংক্রান্ত কোন সংবাদ প্রাপ্ত হইলে, উক্তরূপ প্রাপ্তি সংক্রান্ত তথ্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে লিপিবদ্ধ করিবেন এবং-
(ক) আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, উহার সংবাদ সংশ্লিষ্ট থানার শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্তকর্তার নিকট প্রেরণ করিবেন; এবং
(খ) সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, উহার সংবাদ অধিদপ্তর বা উহার নিকটস্থ কার্যালয়ে প্রেরণ করিবেন।

(৩) অধিদপ্তর বা উহার কোন কার্যালয় সুবিধাবঞ্চিত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, এতদ্‌সংক্রান্ত কোন সংবাদ প্রাপ্ত হইলে, উক্তরূপ প্রাপ্তি সংক্রান্ত তথ্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে লিপিবদ্ধ করিবে এবং-
(ক) আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, উহার সংবাদ সংশ্লিষ্ট থানার শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্তকর্তার নিকট প্রেরণ করিবে; এবং
(খ) সুবিধাবঞ্চিত শিশুর বিষয়ে, ক্ষেত্রমত, ধারা ৮৪ এবং ধারা ৮৫ এর বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

পুলিশ কর্তৃক শিশুকে প্রেরণ ৯১। (১) কোন পুলিশ কর্মকর্তা সুবিধাবঞ্চিত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, এতদ্‌সংক্রান্ত কোন সংবাদ প্রাপ্ত হইলে, উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিশুকে সংশ্লিষ্ট থানার শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শিশুকে প্রাপ্ত হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর ক্ষেত্রে এই আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুর ক্ষেত্রে, ক্ষেত্রমত, ধারা ৮৪ এবং ধারা ৮৫ এর বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাহাকে অধিদপ্তর বা উহার নিকটস্থ কার্যালয়ে প্রেরণ করিবেন।
শিশুর যাচাই (Assessment) ৯২। (১) এই আইনের অধীন প্রাপ্ত শিশুকে ধারা ৮৫ তে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন ‘নিরাপদ স্থানে’ রাখিয়া প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, যাচাই করিবেন এবং তাহার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে এই আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(২) প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মী শিশুর প্রকৃত অবস্থাসহ শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে খুঁজিয়া বাহির করিবেন।
শিশুকল্যাণ বোর্ড-এ তথ্য উপস্থাপন ৯৩। (১) শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে প্রবেশন কর্মকর্তা উহার নিকট রক্ষিত ও প্রাপ্ত সকল তথ্য নিয়মিতভাবে বোর্ড’এর সদস্য-সচিবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিশুকল্যাণ বোর্ড-এ উপস্থাপন করিবেন এবং উহার একটি অনুলিপি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরণ করিবেন।
(২) জেলা এবং, ক্ষেত্রমত, উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করিবে এবং শিশুর সার্বিক কল্যাণার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান করিবে।
বোর্ড কর্তৃক শিশু-আদালতে প্রেরণ ৯৪। (১) কোন শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে তাহাকে তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বা শিশুটির পরিচর্যা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে অপসারণ করা প্রয়োজন মর্মে বোর্ড’ এর নিকট প্রতীয়মান হইলে, বোর্ড বিষয়টি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উহা শিশু-আদালতে প্রেরণ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন বিষয় শিশু-আদালতে প্রেরণ করা হইলে এবং তদ্‌প্রেক্ষিতে কোন শিশুকে শিশু-আদালতে হাজির করা হইলে, উক্ত আদালত সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি পরীক্ষা করিয়া উহার সারমর্ম লিপিবদ্ধ করিবে এবং বিষয়টির অধিকতর তদন্ত করিবার পর্যাপ্ত কারণ থাকিলে তদুদ্দেশ্যে তারিখ ধার্য করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন তদন্তের জন্য ধার্য তারিখে শিশু-আদালত এই আইনের অধীন যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইতে পারে উহার পক্ষে বা বিপক্ষে সকল প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য ও শুনানি গ্রহণ ও লিপিবদ্ধ করিবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শিশুর পরিচর্যার উপায় নির্ধারণপূর্বক যেইরূপ যথার্থ মনে করিবে সেইরূপ সময় পর্যন্ত শিশুকে বিকল্প পরিচর্যায় প্রেরণের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন শিশুকে বিকল্প পরিচর্যায় প্রেরণের আদেশ প্রদানকালে শিশু-আদালত প্রবেশন কর্মকর্তাকে শিশুর কল্যাণ নিশ্চিত করিবার এবং শিশুকে সৎ ও কর্মঠ জীবন-যাপনের সুযোগ প্রদান করিবার শর্তে, জামানতসহ বা বিনা জামানতে, আদালত যেইরূপ প্রয়োজনীয় মনে করিবে, সেইরূপ অঙ্গীকারনামা সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করিবে।
(৫) এই ধারার বিধান অনুযায়ী শিশুকে বিকল্প পরিচর্যায় প্রেরণ করা হইলে শিশু-আদালত প্রবেশন কর্মকর্তাকে উক্তরূপ পরিচর্যার আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হইতেছে কি না তাহা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করিবে এবং তদ্‌বিষয়ে ত্রৈমাসিকভিত্তিতে আদালতে দাখিল করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিবে।
একাদশ অধ্যায়
বিবিধ বিধানাবলী
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা ৯৫। সরকার এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
আইনের কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারের দায়িত্ব ৯৬। সরকার এই আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং এতদ্‌বিষয়ে, প্রয়োজনে, নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে।
অস্পষ্টতা দূরীকরণ ৯৭। এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অস্পষ্টতা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্তরূপ অস্পষ্টতা দূর করিতে পারিবে।
সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ ৯৮। এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে করা হইয়াছে বা করিবার উদ্দেশ্য ছিল বলিয়া বিবেচিত কোন কার্যের জন্য কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন প্রকার আইনগত কার্যধারা রুজু করিতে পারিবেন না।
ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ ৯৯। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, প্রয়োজনবোধে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) এই আইনের বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

রহিতকরণ ও হেফাজত ১০০। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Children Act, 1974 (Act No. XXXIX of 1974), অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, রহিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও উক্ত Act এর অধীন-

(ক) কৃত কাজ-কর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) এই আইন কার্যকর হইবার তারিখে অনিষ্পন্ন কার্যাদি, যতদূর সম্ভব, এই আইনের বিধান অনুসারে নিষ্পন্ন করিতে হইবে;

(গ) নিষ্পন্নাধীন মামলার ধারাবাহিকতায় প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে (certified institute or remand home) অবস্থানরত শিশুর অবস্থান এই আইনের বিধান অনুসারে পূর্বের ন্যায় একইরূপে অব্যাহত থাকিবে;

(ঘ) দায়েরকৃত অনিষ্পন্নাধীন মামলাসমূহ যে সকল কিশোর আদালতে বিচারাধীন রহিয়াছে উক্ত মামলাসমূহ উক্ত শিশু-আদালতসমূহের মাধ্যমেই এমনভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উক্ত Act রহিত ও বিলুপ্ত হয় নাই;

(ঙ) প্রতিষ্ঠিত কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র, কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র বা নিবাসসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান, যে নামেই প্রতিষ্ঠিত হউক না কেন, পরবর্তী নির্দেশ প্রদান না করা পর্যন্ত, এমনভাবে উহার কার্যক্রম অব্যাহত রাখিবে যেন উহারা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বা প্রত্যয়িত হইয়াছে;

(চ) মাতা-পিতার অবাধ্য কোন শিশুকে কোন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে আটক রাখা হইলে এবং তাহারা আটকাবস্থায় থাকিলে, যে মেয়াদের জন্য তাহাদের আটক রাখা হইয়াছে সেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার সঙ্গে সঙ্গে তাহাদিগকে মাতা-পিতা বা অভিভাবকের নিকট ফেরত প্রদান করিতে হইবে।

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০

( ২০০০ সনের ৮ নং আইন )

[১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০০০]

নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷
যেহেতু নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ১৷ এই আইন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে৷
সংজ্ঞা ২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “অপরাধ” অর্থ এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ;

(খ) “অপহরণ” অর্থ বলপ্রয়োগ বা প্রলুব্ধ করিয়া বা ফুসলাইয়া বা ভুল বুঝাইয়া বা ভীতি প্রদর্শন করিয়া কোন স্থান হইতে কোন ব্যক্তিকে অন্যত্র যাইতে বাধ্য করা;

(গ) “আটক” অর্থ কোন ব্যক্তিকে তাহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন স্থানে আটকাইয়া রাখা;

(ঘ) “ট্রাইব্যুনাল” অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত কোন ট্রাইব্যুনাল;

(ঙ) “ধর্ষণ” অর্থ ধারা ৯ এর বিধান সাপেক্ষে, Penal Code, 1860 (Act XLV of 1860) এর Section 375 এ সংজ্ঞায়িত ærape”;

(চ) “নবজাতক শিশু” অর্থ অনূর্ধ্ব চল্লিশ দিন বয়সের কোন শিশু;

(ছ) “নারী” অর্থ যে কোন বয়সের নারী;

(জ) “মুক্তিপণ” অর্থ আর্থিক সুবিধা বা অন্য যে কোন প্রকারের সুবিধা;

(ঝ) “ফৌজদারী কার্যবিধি” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898);

[ (ঞ) “যৌতুক” অর্থ-

(অ) কোন বিবাহের বর বা বরের পিতা বা মাতা বা প্রত্যক্ষভাবে বিবাহের সহিত জড়িত বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত বিবাহের সময় বা তত্পূর্বে বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বিবাহের পণ হিসাবে বিবাহের কনে পক্ষের নিকট দাবীকৃত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ; অথবা

(আ) কোন বিবাহের কনে পক্ষ কর্তৃক বিবাহের বর বা বরের পিতা বা মাতা বা প্রত্যক্ষভাবে বিবাহের সহিত জড়িত বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্ত বিবাহের সময় বা তত্পূর্বে বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বিবাহের পণ হিসাবে প্রদত্ত বা প্রদানে সম্মত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ;

(ট) “শিশু” অর্থ অনধিক ষোল বত্সর বয়সের কোন ব্যক্তি;]

(ঠ) “হাইকোর্ট বিভাগ” অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট এর হাইকোর্ট বিভাগ৷

আইনের প্রাধান্য ৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
দহনকারী, ইত্যাদি পদার্থ দ্বারা সংঘটিত অপরাধের শাস্তি ৪৷ (১) যদি কোন ব্যক্তি দহনকারী, ক্ষয়কারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোন শিশু বা নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

(২) যদি কোন ব্যক্তি কোন দহনকারী, ক্ষয়কারী বা বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোন শিশু বা নারীকে এমনভাবে আহত করেন যাহার ফলে উক্ত শিশু বা নারীর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট হয় বা শরীরের কোন অংগ, গ্রন্থি বা অংশ বিকৃত বা নষ্ট হয় বা তাহার শরীরের অন্য কোন স্থান আহত হয়, তাহা হইলে উক্ত শিশুর বা নারীর-

(ক) দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট বা মুখমণ্ডল, স্তন বা যৌনাংগ বিকৃত বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকার অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) শরীরের অন্য কোন অংগ, গ্রন্থি বা অংশ বিকৃত বা নষ্ট হওয়ার বা শরীরের কোন স্থানে আঘাত পাওয়ার ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি অনধিক চৌদ্দ বত্সর কিন্তু অন্যুন সাত বত্সরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

(৩) যদি কোন ব্যক্তি কোন দহনকারী, ক্ষয়কারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ কোন শিশু বা নারীর উপর নিক্ষেপ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, তাহার উক্তরূপ কার্যের দরুণ সংশ্লিষ্ট শিশু বা নারীর শারীরিক, মানসিক বা অন্য কোনভাবে কোন ক্ষতি না হইলেও, অনধিক সাত বত্সর কিন্তু অন্যুন তিন বত্সরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

(৪) এই ধারার অধীন অর্থদণ্ডের অর্থ প্রচলিত আইনের বিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে বা তাহার বিদ্যমান সম্পদ, বা তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর সময় রাখিয়া যাওয়া সম্পদ হইতে আদায় করিয়া অপরাধের দরুণ যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটিয়াছে তাহার উত্তরাধিকারীকে বা, ক্ষেত্রমত, যেই ব্যক্তি শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন, সেই ব্যক্তিকে বা সেই ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে, তাহার উত্তরাধিকারীকে প্রদান করা হইবে৷

নারী পাচার, ইত্যাদির শাস্তি ৫৷ (১) যদি কোন ব্যক্তি পতিতাবৃত্তি বা বেআইনী বা নীতিবিগর্হিত কোন কাজে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে কোন নারীকে বিদেশ হইতে আনয়ন করেন বা বিদেশে পাচার বা প্রেরণ করেন অথবা ক্রয় বা বিক্রয় করেন বা কোন নারীকে ভাড়ায় বা অন্য কোনভাবে নির্যাতনের উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করেন, বা অনুরূপ কোন উদ্দেশ্যে কোন নারীকে তাহার দখলে, জিম্মায় বা হেফাজতে রাখেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অনধিক বিশ বত্সর কিন্তু অন্যুন দশ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

(২) যদি কোন নারীকে কোন পতিতার নিকট বা পতিতালয়ের রক্ষণাবেক্ষণকারী বা ব্যবস্থাপকের নিকট বিক্রয়, ভাড়া বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা হয়, তাহা হইলে যে ব্যক্তি উক্ত নারীকে অনুরূপভাবে হস্তান্তর করিয়াছেন তিনি, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, উক্ত নারীকে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে বিক্রয় বা হস্তান্তর করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷

(৩) যদি কোন পতিতালয়ের রক্ষণাবেক্ষণকারী বা পতিতালয়ের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কোন ব্যক্তি কোন নারীকে ক্রয় বা ভাড়া করেন বা অন্য কোনভাবে কোন নারীকে দখলে নেন বা জিম্মায় রাখেন, তাহা হইলে তিনি, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, উক্ত নারীকে পতিতা হিসাবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে ক্রয় বা ভাড়া করিয়াছেন বা দখলে বা জিম্মায় রাখিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷

শিশু পাচার, ইত্যাদির শাস্তি ৬৷ (১) যদি কোন ব্যক্তি কোন বেআইনী বা নীতিবিগর্হিত উদ্দেশ্যে কোন শিশুকে বিদেশ হইতে আনয়ন করেন বা বিদেশে প্রেরণ বা পাচার করেন অথবা ক্রয় বা বিক্রয় করেন বা উক্তরূপ কোন উদ্দেশ্যে কোন শিশুকে নিজ দখলে, জিম্মায় বা হেফাজতে রাখেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

(২) যদি কোন ব্যক্তি কোন নবজাতক শিশুকে হাসপাতাল, শিশু বা মাতৃসদন, নার্সিং হোম, ক্লিনিক, ইত্যাদি বা সংশ্লিষ্ট শিশুর অভিভাবকের হেফাজত হইতে চুরি করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷

নারী ও শিশু অপহরণের শাস্তি ৭৷ যদি কোন ব্যক্তি ধারা ৫-এ উল্লিখিত কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে কোন নারী বা শিশুকে অপহরণ করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অন্যুন চৌদ্দ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
মুক্তিপণ আদায়ের শাস্তি ৮৷ যদি কোন ব্যক্তি মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কোন নারী বা শিশুকে আটক করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, ইত্যাদির শাস্তি ৯৷ (১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

ব্যাখ্যা৷- যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত [ ষোল বত্সরের] অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা [ ষোল বত্সরের] কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন৷

(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষন করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

(৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-

(ক) ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

(৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী ধর্ষিতা হন, তাহা হইলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যুন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা, ইত্যাদির শাস্তি [ ৯ক৷ কোন নারীর সম্মতি ছাড়া বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত (Wilful) কোন কার্য দ্বারা সম্ভ্রমহানি হইবার প্রত্যক্ষ কারণে কোন নারী আত্মহত্যা করিলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত নারীকে অনুরূপ কার্য দ্বারা আত্মহত্যা করিতে প্ররোচিত করিবার অপরাধে অপরাধী হইবেন এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷]
যৌন পীড়ন, ইত্যাদির দণ্ড [ ১০৷ যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে তাহার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোন নারীর শ্লীলতাহানি করেন তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন তিন বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷]
যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি ১১৷ যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন [ কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

[ (খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বত্সর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বত্সর কিন্তু অন্যুন এক বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷]

ভিক্ষাবৃত্তি, ইত্যাদির উদ্দেশ্যে শিশুকে অঙ্গহানি করার শাস্তি ১২৷ যদি কোন ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তি বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির উদ্দেশ্যে কোন শিশুর হাত, পা, চক্ষু বা অন্য কোন অংগ বিনষ্ট করেন বা অন্য কোনভাবে বিকলাংগ বা বিকৃত করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জন্মলাভকারী শিশু সংক্রান্ত বিধান [ ১৩৷ (১) অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধর্ষণের কারণে কোন সন্তান জন্মলাভ করিলে-

(ক) উক্ত সন্তানকে তাহার মাতা কিংবা তাহার মাতৃকুলীয় আত্মীয় স্বজনের তত্ত্বাবধানে রাখা যাইবে;

(খ) উক্ত সন্তান তাহার পিতা বা মাতা, কিংবা উভয়ের পরিচয়ে পরিচিত হইবার অধিকারী হইবে;

(গ) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহণ করিবে;

(ঘ) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় তাহার বয়স একুশ বত্সর পূর্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রদেয় হইবে, তবে একুশ বত্সরের অধিক বয়স্ক কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে তাহার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত এবং পঙ্গু সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি স্বীয় ভরণপোষণের যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত প্রদেয় হইবে৷

(২) সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিবে৷

(৩) এই ধারার অধীন কোন সন্তানকে ভরণপোষণের জন্য প্রদেয় অর্থ সরকার ধর্ষকের নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবে এবং ধর্ষকের বিদ্যমান সম্পদ হইতে উক্ত অর্থ আদায় করা সম্ভব না হইলে, ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হইবেন সেই সম্পদ হইতে উহা আদায়যোগ্য হইবে৷]

সংবাদ মাধ্যমে নির্যাতিতা নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশের ব্যাপারে বাধা-নিষেধ ১৪৷ (১) এই আইনে বর্ণিত অপরাধের শিকার হইয়াছেন এইরূপ নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা তত্সম্পর্কিত আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা বা অন্যবিধ তথ্য কোন সংবাদ পত্রে বা অন্য কোন সংবাদ মাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাইবে যাহাতে উক্ত নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায়৷

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করা হইলে উক্ত লংঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের প্রত্যেকে অনধিক দুই বত্সর কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷

ভবিষ্যত্ সম্পত্তি হইতে অর্থদণ্ড আদায় ১৫৷ এই আইনের ধারা ৪ হইতে ১৪ পর্যন্ত ধারাসমূহে উল্লিখিত অপরাধের জন্য ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আরোপিত অর্থদণ্ডকে, প্রয়োজনবোধে, ট্রাইব্যুনাল অপরাধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে গণ্য করিতে পারিবে এবং অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ দণ্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে বা তাহার বিদ্যমান সম্পদ হইতে আদায় করা সম্ভব না হইলে, ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হইবেন সেই সম্পদ হইতে আদায়যোগ্য হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পদের উপর অন্যান্য দাবী অপেক্ষা উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবী প্রাধান্য পাইবে৷
অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদ্ধতি ১৬৷ এই আইনের অধীনে কোন অর্থদণ্ড আরোপ করা হইলে, ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট জেলার কালেক্টরকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বা অনুরূপ বিধি না থাকিলে, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অপরাধীর স্থাবর বা অস্থাবর বা উভয়বিধ সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুতক্রমে ক্রোক ও নিলাম বিক্রয় বা ক্রোক ছাড়াই সরাসরি নিলামে বিক্রয় করিয়া বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং ট্রাইব্যুনাল উক্ত অর্থ অপরাধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রদানের ব্যবস্থা করিবে৷
মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের ইত্যাদির শাস্তি ১৭৷ (১) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অন্য কোন ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ করার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান তাহা হইলে মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়ের করাইয়াছেন উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

(২) কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল উপ-ধারা (১) এর অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করিতে পারিবে৷

অপরাধের তদন্ত [ ১৮৷ (১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন অপরাধের তদন্ত-

(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনের সময়ে হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হইলে বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধৃত হইয়া পুলিশের নিকট সোপর্দ হইলে, তাহার ধৃত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী পনের কার্য দিবসের মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে; অথবা

(খ) অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনের সময়ে হাতেনাতে ধৃত না হইলে তাহার অপরাধ সংঘটন সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য প্রাপ্তি বা, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা ট্রাইব্যুনালের নিকট হইতে তদন্তের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে পরবর্তী ষাট কার্য দিবসের মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে৷

(২) কোন যুক্তিসংগত কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্তকার্য সমাপ্ত করা সম্ভব না হইলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অতিরিক্ত ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে অপরাধের তদন্ত কার্য সম্পন্ন করিবেন এবং তত্সম্পর্কে কারণ উল্লেখ পূর্বক তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তের আদেশ প্রদানকারী ট্রাইব্যুনালকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন৷

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যেও তদন্তকার্য সম্পন্ন করা না হইলে, সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে উক্তরূপ তদন্তকার্য সম্পন্ন না হওয়া সম্পর্কে তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা কিংবা তদন্তের আদেশ প্রদানকারী ট্রাইব্যুনালকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন৷

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন তদন্তকার্য সম্পন্ন না হওয়া সম্পর্কে অবহিত হইবার পর নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা কিংবা, ক্ষেত্রমত, তদন্তের আদেশ প্রদানকারী ট্রাইব্যুনাল উক্ত অপরাধের তদন্তভার অন্য কোন কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপে কোন অপরাধের তদন্তভার হস্তান্তর করা হইলে তদন্তের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-

(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনের সময়ে হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হইলে বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধৃত হইয়া পুলিশের নিকট সোপর্দ হইলে, তদন্তের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে পরবর্তী সাত কার্য দিবসের মধ্যে সম্পন্ন করিবেন; অথবা

(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে তদন্তের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে পরবর্তী ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে৷

(৫) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যেও তদন্তকার্য সম্পন্ন করা না হইলে, সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে উক্তরূপ তদন্তকার্য সম্পন্ন না হওয়া সম্পর্কে তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা কিংবা, ক্ষেত্রমত, তদন্তের আদেশ প্রদানকারী ট্রাইব্যুনালকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন৷

(৬) উপ-ধারা (২) বা উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে কোন তদন্তকার্য সম্পন্ন না করার ক্ষেত্রে, তত্সম্পর্কে ব্যাখ্যা সম্বলিত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা কিংবা, ক্ষেত্রমত, তদন্তের আদেশ প্রদানকারী ট্রাইব্যুনাল যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাই দায়ী, তাহা হইলে উহা দায়ী ব্যক্তির অদক্ষতা ও অসদাচরণ বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এই অদক্ষতা ও অসদাচরণ তাহার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ করা হইবে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী তাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে৷

(৭) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর যদি ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি পর্যালোচনা করিয়া এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, তদন্ত প্রতিবেদনে আসামী হিসাবে উল্লিখিত কোন ব্যক্তিকে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষী করা বাঞ্ছনীয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে আসামীর পরিবর্তে সাক্ষী হিসাবে গণ্য করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে৷

(৮) যদি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্তির পর ট্রাইব্যুনালের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, এই আইনের অধীন কোন অপরাধের তদন্তকারী কর্মকর্তা কোন ব্যক্তিকে অপরাধের দায় হইতে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বা তদন্তকার্যে গাফিলতির মাধ্যমে অপরাধটি প্রমাণে ব্যবহারযোগ্য কোন আলামত সংগ্রহ বা বিবেচনা না করিয়া বা মামলার প্রমাণের প্রয়োজন ব্যতিরেকে উক্ত ব্যক্তিকে আসামীর পরিবর্তে সাক্ষী করিয়া বা কোন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে পরীক্ষা না করিয়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিয়াছেন, তাহা হইলে উক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উক্ত কার্য বা অবহেলাকে অদক্ষতা বা, ক্ষেত্রমত, অসদাচরণ হিসাবে চিহ্নিত করিয়া ট্রাইব্যুনাল উক্ত কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে তাহার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারিবে৷

(৯) ট্রাইব্যুনাল কোন আবেদনের প্রেক্ষিতে বা অন্য কোন তথ্যের ভিত্তিতে কোন তদন্তকারী কর্মকর্তার পরিবর্তে অন্য কোন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারিবে৷]

অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ, ইত্যাদি ১০[ ১৯৷ (১) এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় সকল অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণীয় (Cognizable) হইবে৷

(২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত মূল এবং প্রত্যক্ষভাবে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হইবে না, যদি-

(ক) তাহাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদনের উপর অভিযোগকারী পক্ষকে শুনানীর সুযোগ দেওয়া না হয়; এবং

(খ) তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হন৷

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোন ব্যক্তি নারী বা শিশু হইলে কিংবা শারীরিকভাবে অসুস্থ (sick or infirm) হইলে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হইবে না মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইবে৷

(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ব্যক্তি ব্যতীত এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের জন্য অভিযুক্ত অন্য কোন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া ন্যায়সংগত হইবে মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হইলে তদ্‌মর্মে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনাল জামিনে মুক্তি দিতে পারিবে৷]

বিচার পদ্ধতি ২০৷ (১) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার কেবলমাত্র ধারা ২৫ এর অধীন গঠিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হইবে৷

(২) ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানী শুরু হইলে উহা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা চলিবে৷

(৩) বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ হইতে একশত আশি দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল বিচারকার্য সমাপ্ত করিবে৷

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন সময়সীমার মধ্যে মামলার বিচারকার্য সমাপ্ত না হইলে, ট্রাইব্যুনাল মামলার আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারিবে এবং আসামীকে জামিনে মুক্তি দেওয়া না হইলে ট্রাইব্যুনাল উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিবে৷

(৫) কোন মামলার বিচারকার্য শেষ না করিয়া যদি কোন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বদলী হইয়া যান, তাহা হইলে তিনি বিচারকার্যের যে পর্যায়ে মামলাটি রাখিয়া গিয়াছেন, সেই পর্যায় হইতে তাহার স্থলাভিষিক্ত বিচারক বিচার করিবেন এবং তাহার পূর্ববর্তী বিচারক যে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করিয়াছেন সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য পুনরায় গ্রহণ করার প্রয়োজন হইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে যদি বিচারক কোন সাক্ষীর সাক্ষ্য পুনরায় গ্রহণ করা অপরিহার্য বলিয়া মনে করেন, তাহা হইলে তিনি সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইয়াছে এমন যে কোন সাক্ষীকে তলব করিয়া পুনরায় তাহার সাক্ষ্য গ্রহণ করিতে পারিবেন৷

১১[ (৬) কোন ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে কিংবা ট্রাইব্যুনাল স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করিলে এই আইনের ধারা ৯ এর অধীন অপরাধের বিচার কার্যক্রম রুদ্ধদ্বার কক্ষে (trial in camera) অনুষ্ঠান করিতে পারিবে৷]

(৭) কোন শিশু এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে অভিযুক্ত হইলে বা উক্ত অপরাধের সাক্ষী হইলে তাহার ক্ষেত্রে Children Act, 1974 (XXXIX of 1974) এর বিধানাবলী যতদূর সম্ভব অনুসরণ করিতে হইবে৷

১২[ (৮) কোন নারী বা শিশুকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখিবার আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল, উক্ত নারী বা শিশুর কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষার্থে তাহার মতামত গ্রহণ ও বিবেচনা করিবে৷]

আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার ২১৷ (১) যদি ট্রাইব্যুনালের এই মর্মে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে,-

(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারের জন্য সোপর্দকরণ এড়াইবার জন্য পলাতক রহিয়াছে বা আত্মগোপন করিয়াছেন; এবং

(খ) তাহার আশু গ্রেফতারের কোন সম্ভাবনা নাই, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল অন্তত: দুইটি বাংলা দৈনিক খবরের কাগজে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা, আদেশে উল্লিখিত সময়, যাহা ত্রিশ দিনের বেশী হইবে না, এর মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির হইতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল তাহার অনুপস্থিতিতে বিচার করিতে পারিবে৷

(২) যদি কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির হইবার পর বা তাহাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর বা তাহাকে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জামিনে মুক্তি দেওয়ার পর পলাতক হন, তাহা হইলে তাহার ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না, এবং সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তাহার বিচার সম্পন্ন করিতে পারিবে৷

ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক যে কোন স্থানে জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষমতা ২২৷ (১) এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধের তদন্তকারী কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা তদন্তকারী অন্য কোন ব্যক্তি কিংবা অকুস্থলে কোন আসামীকে ধৃত করার সময় কোন পুলিশ কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে, ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকেফহাল বা ঘটনাটি নিজ চক্ষে দেখিয়াছেন এমন কোন ব্যক্তির জবানবন্দি অপরাধের ত্বরিত বিচারের স্বার্থে কোন ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অবিলম্বে লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটকে উক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করিবার জন্য লিখিতভাবে বা অন্য কোনভাবে অনুরোধ করিতে পারিবেন৷

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ম্যাজিষ্ট্রেট ঘটনাস্থল বা অন্য কোন যথাযথ স্থানে উক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করিবেন এবং উক্তরূপে গৃহীত জবানবন্দি তদন্ত প্রতিবেদনের সহিত সামিল করিয়া ট্রাইব্যুনালে দাখিল করিবার নিমিত্ত তদন্তকারী কর্মকর্তার বা ব্যক্তির নিকট সরাসরি প্রেরণ করিবেন৷

(৩) যদি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির বিচার কোন ট্রাইব্যুনালে শুরু হয় এবং দেখা যায় যে, উপ-ধারা (২) এর অধীন জবানবন্দি প্রদানকারী ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রয়োজন, কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করিয়াছেন বা তিনি সাক্ষ্য দিতে অক্ষম বা তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া সম্ভব নহে বা তাহাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করিবার চেষ্টা এইরূপ বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধার ব্যাপার হইবে যাহা পরিস্থিতি অনুসারে কাম্য হইবে না, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল উক্ত জবানবন্দি মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, শুধুমাত্র উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করিয়া ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে না৷

রাসায়নিক পরীক্ষক, রক্ত পরীক্ষক, ইত্যাদির সাক্ষ্য ২৩৷ সরকার কর্তৃক নিয়োজিত কোন চিকিত্সক, রাসায়নিক পরীক্ষক, সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক, রক্ত পরীক্ষক, হস্তলিপি বিশেষজ্ঞ, আংগুলাংক বিশারদ অথবা আগ্নেয়াস্ত্র বিশারদকে এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংক্রান্ত কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে কোন বিষয়ে পরীক্ষা বা বিশ্লেষণ করিয়া প্রতিবেদন প্রদান করিবার পর বিচারকালে তাহার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন, কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করিয়াছেন বা তিনি সাক্ষ্য দিতে অক্ষম বা তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া সম্ভব নয় বা তাহাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করিবার চেষ্টা এইরূপ বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধার ব্যাপার হইবে যাহা পরিস্থিতি অনুসারে কাম্য হইবে না তাহা হইলে তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এই আইনের অধীন বিচারকালে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা যাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, শুধুমাত্র উক্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করিয়া ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে না৷

সাক্ষীর উপস্থিতি ২৪৷ (১) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচারের জন্য সাক্ষীর সমন বা ওয়ারেন্ট কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সাক্ষীর সর্বশেষ বসবাসের ঠিকানা যে থানায় অবস্থিত, সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত সাক্ষীকে উক্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করিবার দায়িত্ব উক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার থাকিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও সাক্ষীর সমনের একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সাক্ষীকে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার বা, ক্ষেত্রমত, পুলিশ কমিশনারকে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সমেত নিবন্ধিত ডাকযোগে প্রেরণ করা যাইবে৷

(৩) এই ধারার অধীন কোন সমন বা ওয়ারেন্ট কার্যকর করিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি করিলে ট্রাইব্যুনাল উহাকে অদক্ষতা হিসাবে চিহ্নিত করিয়া সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ, ইত্যাদি ২৫৷ (১) এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, কোন অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে এবং ট্রাইব্যুনাল একটি দায়রা আদালত বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই আইনের অধীন যে কোন অপরাধ বা তদনুসারে অন্য কোন অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে৷

(২) ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী ব্যক্তি পাবলিক প্রসিকিউটর বলিয়া গণ্য হইবেন৷

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২৬৷ (১) এই আইনের অধীন অপরাধ বিচারের জন্য প্রত্যেক জেলা সদরে একটি করিয়া ট্রাইব্যুনাল থাকিবে এবং প্রয়োজনে সরকার উক্ত জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনালও গঠন করিতে পারিবে; এইরূপ ট্রাইব্যুনাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নামে অভিহিত হইবে৷

(২) একজন বিচারক সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হইবে এবং সরকার জেলা ও দায়রা জজগণের মধ্য হইতে উক্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযু্‌ক্ত করিবে৷

(৩) সরকার, প্রয়োজনবোধে, কোন জেলা ও দায়রা জজকে তাহার দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসাবে ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযুক্ত করিতে পারিবে৷

(৪) এই ধারায় জেলা জজ ও দায়রা জজ বলিতে যথাক্রমে অতিরিক্ত জেলা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজও অন্তর্ভুক্ত৷

ট্রাইব্যুনালের এখ্‌তিয়ার ২৭৷ ১৩[ (১) সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা এতদুদ্দেশ্যে সরকারের নিকট হইতে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির লিখিত রিপোর্ট ব্যতিরেকে কোন ট্রাইব্যুনাল কোন অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবেন না৷

(১ক) কোন অভিযোগকারী উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কোন অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ করিবার জন্য অনুরোধ করিয়া ব্যর্থ হইয়াছেন মর্মে হলফনামা সহকারে ট্রাইব্যুনালের নিকট অভিযোগ দাখিল করিলে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করিয়া,-

(ক) সন্তুষ্ট হইলে অভিযোগটি অনুসন্ধানের (inquiry) জন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেট কিংবা অন্য কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি অভিযোগটি অনুসন্ধান করিয়া সাত কার্য দিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের নিকট রিপোর্ট প্রদান করিবেন;

(খ) সন্তুষ্ট না হইলে অভিযোগটি সরাসরি নাকচ করিবেন৷

(১খ) উপ-ধারা (১ক) এর অধীন রিপোর্ট প্রাপ্তির পর কোন ট্রাইব্যুনাল যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে,-

(ক) অভিযোগকারী উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কোন অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ করিবার জন্য অনুরোধ করিয়া ব্যর্থ হইয়াছেন এবং অভিযোগের সমর্থনে প্রাথমিক সাক্ষ্য প্রমাণ আছে সেই ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল উক্ত রিপোর্ট ও অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধটি বিচারার্থ গ্রহণ করিবেন;

(খ) অভিযোগকারী উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কোন অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ করিবার জন্য অনুরোধ করিয়া ব্যর্থ হইয়াছেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া যায় নাই কিংবা অভিযোগের সমর্থনে কোন প্রাথমিক সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায় নাই সেই ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি নাকচ করিবেন৷

(১গ) উপ-ধারা (১) এবং (১ক) এর অধীন প্রাপ্ত রিপোর্টে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ বা তত্সম্পর্কে কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ না থাকা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল, যথাযথ এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করিলে, কারণ উল্লেখপূর্বক উক্ত ব্যক্তির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিতে পারিবেন৷]

(২) যে ট্রাইব্যুনালের এখ্‌তিয়ারাধীন এলাকায় কোন অপরাধ বা উহার কোন অংশ সংঘটিত হইয়াছে অথবা যেখানে অপরাধীকে বা, একাধিক অপরাধীর ক্ষেত্রে, তাহাদের যে কোন একজনকে পাওয়া গিয়াছে, সেই স্থান বা ট্রাইব্যুনালের এখ্‌তিয়ারাধীন, সেই ট্রাইব্যুনালে অপরাধটি বিচারার্থ গ্রহণের জন্য রিপোর্ট বা অভিযোগ পেশ করা যাইবে এবং সেই ট্রাইব্যুনাল অপরাধটির বিচার করিবে৷

(৩) যদি এই আইনের অধীন কোন অপরাধের সহিত অন্য কোন অপরাধ এমনভাবে জড়িত থাকে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উভয় অপরাধের বিচার একই সংগে বা একই মামলায় করা প্রয়োজন, তাহা হইলে উক্ত অন্য অপরাধটির বিচার এই আইনের অধীন অপরাধের সহিত এই আইনের বিধান অনুসরণে একই সংগে বা একই ট্রাইব্যুনালে করা যাইবে৷

আপীল ২৮৷ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে, হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবেন৷
মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ২৯৷ এই আইনের অধীনে কোন ট্রাইব্যুনাল, মৃত্যুদণ্ড প্রদান করিলে সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র অবিলম্বে ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ এর বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত বিভাগের অনুমোদন ব্যতীত মৃতুদণ্ড কার্যকর করা যাইবে না৷
অপরাধে প্ররোচনা বা সহায়তার শাস্তি ৩০৷ যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা যোগান এবং সেই প্ররোচনার ফলে উক্ত অপরাধ সংঘটিত হয় বা অপরাধটি সংঘটনের চেষ্টা করা হয় বা কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন, তাহা হইলে ঐ অপরাধ সংঘটনের জন্য বা অপরাধটি সংঘটনের চেষ্টার জন্য নির্ধারিত দণ্ডে প্ররোচনাকারী বা সহায়তাকারী ব্যক্তি দণ্ডনীয় হইবেন৷
নিরাপত্তামূলক হেফাজত ৩১৷ এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার চলাকালে যদি ট্রাইব্যুনাল মনে করে যে, কোন নারী বা শিশুকে নিরাপত্তামূলক হেফাজতে রাখা প্রয়োজন, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল উক্ত নারী বা শিশুকে কারাগারের বাহিরে ও সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত স্থানে সরকারি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে বা ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় যথাযথ অন্য কোন ব্যক্তি বা সংস্থার হেফাজতে রাখিবার নির্দেশ দিতে পারিবে৷
ট্রাইব্যুনাল, ইত্যাদির জবাবদিহিতা ১৪[ ৩১ক৷ (১) কোন মামলা ধারা ২০ এর উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি না হইবার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালকে উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রতিবেদন ত্রিশ দিনের মধ্যে সুপ্রীম কোর্টের নিকট দাখিল করিতে হইবে, যাহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷

(২) অনুরূপ ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকেও উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রতিবেদন ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট দাখিল করিতে হইবে, যাহার একটি অনুলিপি সুপ্রীম কোর্টে প্রেরণ করিতে হইবে৷

(৩) উপ-ধারা (১) বা (২) এর অধীন পেশকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর যথাযথ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷]

অপরাধের শিকার ব্যক্তির মেডিক্যাল পরীক্ষা ১৫[ ৩২৷ (১) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের শিকার ব্যক্তির মেডিক্যাল পরীক্ষা সরকারী হাসপাতালে কিংবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে স্বীকৃত কোন বেসরকারী হাসপাতালে সম্পন্ন করা যাইবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন হাসপাতালে এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের শিকার ব্যক্তির চিকিত্সার জন্য উপস্থিত করা হইলে, উক্ত হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক তাহার মেডিক্যাল পরীক্ষা অতিদ্রুত সম্পন্ন করিবে এবং উক্ত মেডিক্যাল পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করিবে এবং এইরূপ অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি স্থানীয় থানাকে অবহিত করিবে৷

(৩) এই ধারার অধীন যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে কোন মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন না করার ক্ষেত্রে, তত্সম্পর্কে ব্যাখ্যা সম্বলিত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা কিংবা, ক্ষেত্রমত, মেডিক্যাল পরীক্ষার আদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ম্যাজিষ্ট্রেট, ট্রাইব্যুনাল বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন কর্তৃপক্ষ যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকই দায়ী, তাহা হইলে উহা দায়ী ব্যক্তির অদক্ষতা ও অসদাচরণ বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এই অদক্ষতা ও অসদাচরণ তাহার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ করা হইবে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী তাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে, এবং সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার জন্য তাহার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা, ক্ষেত্রমত, যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিতে পারিবে৷]

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা ৩৩৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
১৯৯৫ সনের ১৮ নং আইনের রহিতকরণ ও হেফাজত ৩৪৷ (১) নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১৮ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল৷

(২) উক্তরূপ রহিতকরণের অব্যবহিত পূর্বে উক্ত আইনের অধীন অনিষ্পন্ন মামলা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে এবং অনুরূপ মামলায় প্রদত্ত আদেশ, রায় বা শাস্তির বিরুদ্ধে আপীল সংশ্লিষ্ট আদালতে এমনভাবে পরিচালিত ও নিষ্পত্তি হইবে যেন উক্ত আইন রহিত করা হয় নাই৷

(৩) উক্ত আইনের অধীন অপরাধের কারণে যে সমস্ত মামলার রিপোর্ট বা অভিযোগ করা হইয়াছে বা তত্প্রেক্ষিতে চার্জশীট দাখিল করা হইয়াছে, বা মামলা তদন্তাধীন রহিয়াছে, সেই সমস্ত মামলাও উপ-ধারা (২) এ উল্লেখিত আদালতে বিচারাধীন মামলা বলিয়া গণ্য হইবে৷

(৪) উক্ত আইনের অধীন গঠিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালত সমূহ এই আইনের অধীন গঠিত ট্রাইব্যুনাল হিসাবে গণ্য হইবে এবং উপ-ধারা (২) অনুসারে উহাতে উল্লিখিত মামলাসমূহ নিষ্পত্তি করা যাইবে৷

১ দফা (ঞ) এবং (ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ২ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

২ “ষোল বত্সরের” শব্দগুলি “চৌদ্দ বত্সরের” শব্দগুলির পরিবর্তে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৩ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

৩ “ষোল বত্সরের” শব্দগুলি “চৌদ্দ বত্সরের” শব্দগুলির পরিবর্তে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৩ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

৪ ধারা ৯ক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে সন্নিবেশিত

৫ ধারা ১০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৫ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

৬ “কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন” শব্দগুলি এবং বন্ধনীগুলি “, উক্ত নারীকে আহত করেন বা আহত করার চেষ্টা করেন,” কমাগুলি এবং শব্দগুলির পরিবর্তে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৬ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

৭ দফা (খ) ও (গ) পূর্ববর্তী দফা (খ) এর পরিবর্তে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৬ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

৮ ধারা ১৩ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৭ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

৯ ধারা ১৮ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৮ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

১০ ধারা ১৯ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৯ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

১১ উপ-ধারা (৬) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ১০ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

১২ উপ-ধারা (৮) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ১০ ধারাবলে সংযোজিত

১৩ উপ-ধারা (১), (১ক), (১খ) এবং (১গ) পূর্ববর্তী উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ১১ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

১৪ ধারা ৩১ক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ১২ ধারাবলে সন্নিবেশিত

১৫ ধারা ৩২ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ১৩ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs

BUDDHA QUOTES

_________________________________________________________________________________________________
Do not dwell in the past, do not dream of the future, concentrate the mind on the present moment.
_________________________________________________________________________________________________
Holding on to anger is like grasping a hot coal with the intent of throwing it at someone else; you are the one who gets burned.
_________________________________________________________________________________________________
Thousands of candles can be lighted from a single candle, and the life of the candle will not be shortened. Happiness never decreases by being shared.
_________________________________________________________________________________________________
Health is the greatest gift, contentment the greatest wealth, faithfulness the best relationship.
_________________________________________________________________________________________________
We are shaped by our thoughts; we become what we think. When the mind is pure, joy follows like a shadow that never leaves.
_________________________________________________________________________________________________
Three things cannot be long hidden: the sun, the moon, and the truth.
_________________________________________________________________________________________________
The tongue like a sharp knife… Kills without drawing blood.
_________________________________________________________________________________________________
To enjoy good health, to bring true happiness to one’s family, to bring peace to all, one must first discipline and control one’s own mind. If a man can control his mind he can find the way to Enlightenment, and all wisdom and virtue will naturally come to him.
_________________________________________________________________________________________________
You can search throughout the entire universe for someone who is more deserving of your love and affection than you are yourself, and that person is not to be found anywhere. You yourself, as much as anybody in the entire universe deserve your love and affection.
_________________________________________________________________________________________________
However many holy words you read, however many you speak, what good will they do you if you do not act on upon them?
_________________________________________________________________________________________________
Do not overrate what you have received, nor envy others. He who envies others does not obtain peace of mind.
_________________________________________________________________________________________________
The mind is everything. What you think you become.
_________________________________________________________________________________________________
No one saves us but ourselves. No one can and no one may. We ourselves must walk the path.
_________________________________________________________________________________________________
To keep the body in good health is a duty… otherwise we shall not be able to keep our mind strong and clear.
_________________________________________________________________________________________________
It is better to conquer yourself than to win a thousand battles. Then the victory is yours. It cannot be taken from you, not by angels or by demons, heaven or hell.
_________________________________________________________________________________________________
There are only two mistakes one can make along the road to truth; not going all the way, and not starting.
_________________________________________________________________________________________________
To be idle is a short road to death and to be diligent is a way of life; foolish people are idle, wise people are diligent.
_________________________________________________________________________________________________
Hatred does not cease by hatred, but only by love; this is the eternal rule.
_________________________________________________________________________________________________
Just as a candle cannot burn without fire, men cannot live without a spiritual life.
_________________________________________________________________________________________________
Better than a thousand hollow words, is one word that brings peace.
_________________________________________________________________________________________________
In a controversy the instant we feel anger we have already ceased striving for the truth, and have begun striving for ourselves.
_________________________________________________________________________________________________
I never see what has been done; I only see what remains to be done.
_________________________________________________________________________________________________
You will not be punished for your anger, you will be punished by your anger.
_________________________________________________________________________________________________
We are what we think. All that we are arises with our thoughts. With our thoughts, we make the world.
_________________________________________________________________________________________________
It is a man’s own mind, not his enemy or foe, that lures him to evil ways.
_________________________________________________________________________________________________
When one has the feeling of dislike for evil, when one feels tranquil, one finds pleasure in listening to good teachings; when one has these feelings and appreciates them, one is free of fear.
_________________________________________________________________________________________________
What is the appropriate behavior for a man or a woman in the midst of this world, where each person is clinging to his piece of debris? What’s the proper salutation between people as they pass each other in this flood?
_________________________________________________________________________________________________
Unity can only be manifested by the Binary. Unity itself and the idea of Unity are already two.
_________________________________________________________________________________________________
The foot feels the foot when it feels the ground.
_________________________________________________________________________________________________
A jug fills drop by drop.
_________________________________________________________________________________________________
He who loves 50 people has 50 woes; he who loves no one has no woes.
_________________________________________________________________________________________________
Without health life is not life; it is only a state of langour and suffering – an image of death.
_________________________________________________________________________________________________
I do not believe in a fate that falls on men however they act; but I do believe in a fate that falls on them unless they act.
_________________________________________________________________________________________________
Peace comes from within. Do not seek it without.
_________________________________________________________________________________________________
Whatever words we utter should be chosen with care for people will hear them and be influenced by them for good or ill.
_________________________________________________________________________________________________
You, yourself, as much as anybody in the entire universe, deserve your love and affection.
_________________________________________________________________________________________________
To live a pure unselfish life, one must count nothing as one’s own in the midst of abundance.
_________________________________________________________________________________________________
All wrong-doing arises because of mind. If mind is transformed can wrong-doing remain?
_________________________________________________________________________________________________
Even death is not to be feared by one who has lived wisely.
_________________________________________________________________________________________________
Those who are free of resentful thoughts surely find peace.
_________________________________________________________________________________________________
What we think, we become.
_________________________________________________________________________________________________
Virtue is persecuted more by the wicked than it is loved by the good.
_________________________________________________________________________________________________
The virtues, like the Muses, are always seen in groups. A good principle was never found solitary in any breast.
_________________________________________________________________________________________________
The only real failure in life is not to be true to the best one knows.
_________________________________________________________________________________________________
It is better to travel well than to arrive.
_________________________________________________________________________________________________
Work out your own salvation. Do not depend on others.
_________________________________________________________________________________________________
There has to be evil so that good can prove its purity above it.
_________________________________________________________________________________________________
Just as treasures are uncovered from the earth, so virtue appears from good deeds, and wisdom appears from a pure and peaceful mind. To walk safely through the maze of human life, one needs the light of wisdom and the guidance of virtue.
_________________________________________________________________________________________________
Chaos is inherent in all compounded things. Strive on with diligence.
_________________________________________________________________________________________________
The wise ones fashioned speech with their thought, sifting it as grain is sifted through a sieve.
_________________________________________________________________________________________________

Opera Launches Its Max Data-Savings App For Android

Soon like to check it on!

TechCrunch

About a week ago, Opera teased its new Max data-savings app for Android and allowed users to pre-register. Starting today, Opera will roll out Max to these pre-registered Android users in the U.S. on a first-come, first-served bases. Pre-registered European users can also install it today (there doesn’t seem to be a cap for them).

Opera Max effectively takes the compression technology the company developed to power its Opera Mini mobile browser and the “turbo” mode in its desktop apps and extends it to all of Android. The app sets up a VPN connection to Opera on your phone that is activated every time you switch from your home WiFi network to the cell network. All your non-encrypted data is then routed through Opera’s servers and compressed there.

Screenshot_2014-02-20-22-49-14If you’re on a metered plan, having Opera compress most of the images, videos and text you pull in over the cell…

View original post 398 more words

San Bernardino History & Railroad Museum, California

On The Road With Jim And Mary

The motorhome is parked at American Legion Post #262 in Fontana, California. Mary is home attending to personal matters. I expect to depart here tomorrow.

I’ve had a change of plans. Last September during my eye exam at the Seattle, Washington VA Hospital I was told I have a large cataract in my right eye that should be attended to in the next year. It’s always been difficult getting to that VA Hospital, so I’ve arrangements to change to a local VA Clinic in Sonora, California…about 25 miles from Mary’s home. I now have a March 7th appointment to meet my new primary care doctor there. He will get me to the eye people and I hoping that I might have my eye surgery before Mary leaves for her three-week trip with her grandson to Turkey on April 18th. I now have plans to arrive Mary’s home on March 5th.

View original post 422 more words